লোকসান কাটিয়ে আবার লাভে ফিরল আরএকে সিরামিকস
বড় অঙ্কের লোকসানের ধাক্কা কাটিয়ে আবারও লাভে ফিরল সিরামিক খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি আরএকে সিরামিকস বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথমার্ধ শেষে কোম্পানিটি আবার মুনাফার ধারায় ফিরে এসেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধ (জানুয়ারি-জুন) শেষে কোম্পানিটির মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি ২১ কোটি টাকার বেশি লোকসান করেছিল। সেই হিসাবে ১ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১১১ শতাংশ।
গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত আরএকে সিরামিকসের পরিচালনা পর্ষদের সভায় চলতি বছরের অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। আর আজ সোমবার আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে কোম্পানিটি ৩৭৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩১০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত বছরের চেয়ে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়েছে ৬৪ কোটি টাকার বা প্রায় ২১ শতাংশ। বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি কোম্পানিটির উৎপাদন খরচও কমেছে। দুইয়ে মিলিয়ে কোম্পানিটির মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা কোম্পানিটিকে লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরতে সহায়তা করে।
আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে কোম্পানিটির ৩৭৪ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে পণ্যের উৎপাদন ছিল ৩০২ কোটি টাকা, যা বিক্রির তুলনায় ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ কোম্পানিটির ১০০ টাকার পণ্য বিক্রির বিপরীতে উৎপাদন খরচ ছিল ৮০ টাকা। গত বছরের একই সময়ে ১০০ টাকার পণ্য বিক্রির বিপরীতে কোম্পানিটির উৎপাদন খরচ ছিল ৮৫ টাকা।
জানতে চাইলে আরএকে সিরামিকসের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘লোকসান থেকে কোম্পানিটিকে আবারও মুনাফার ধারায় ফিরিয়ে আনতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোম্পানির ব্যবস্থাপনার পুরোটাই ঢেলে সাজানো হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বও বদল করা হয়েছে। যার ফলে বিপণনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খরচ কমানোর নানা উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। নেতৃত্ব বদল ও খরচ কমানোর নানা উদ্যোগের সুফল আমরা আর্থিক হিসাবে পেয়েছি। আশা করছি, মুনাফার এই ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।’
শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আগে আরএকে সিরামিকসের পণ্যের বড় বাজার ছিল শহরনির্ভর। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি এখন আমরা গ্রামাঞ্চলে যেখানে সিরামিকসের বাজার হয়েছে, সেখানে আমাদের পণ্যের সরবরাহ ও বাজার বড় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তার কিছুটা সুফল চলতি বছরের অর্ধবার্ষিক হিসাবে পাওয়া গেছে।’
অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের পাশাপাশি সর্বশেষ এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন আলাদাভাবে প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি। তাতে দেখা যায়, গত এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানিটি ব্যবসা করেছে ১৯৯ কোটি টাকার। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৬৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির বিক্রি ৩৬ কোটি টাকার বা ২২ শতাংশ বেড়েছে। তাতে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ৩ মাসে কোম্পানিটি মুনাফা করেছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। গত বছর যেখানে কোম্পানিটি সাড়ে ১৮ কোটি টাকা লোকসান করেছিল।