মুড়ি-চানাচুর, সেমাইসহ ৪৯ পণ্যে ভেজাল পেয়েছে বিএসটিআই
রমজান মাস উপলক্ষে ইফতার ও সাহ্রিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্যের মান যাচাই করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে প্রায় ৪৯টি খাদ্যপণ্যে নিম্নমান বা ভেজাল পেয়েছে সংস্থাটি। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে মুড়ি, চানাচুর, সেমাই, লবণ, শর্ষের তেল, হলুদের গুঁড়া, সস, কেক, চিপসসহ বিভিন্ন ধরনের প্যাকেটজাত পণ্য।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজ রোববার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমান। পবিত্র রমাজন মাসে বিএসটিআইয়ের কার্যক্রম তুলে ধরতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির মহাপরিচালক এম এ কামাল বিল্লাহ ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমান জানান, রোজা উপলক্ষে বাজার থেকে বিভিন্ন পণ্যের ১ হাজার ৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। যার মধ্যে ৭৫০টি পণ্যের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৭০১টি পণ্য মানসম্মত ছিল। তবে ৪৯টি পণ্য ছিল নিম্নমানের। আর ২৫৬টি নমুনা এখনো পরীক্ষাধীন রয়েছে। নিম্নমানের পণ্যের সব কটিই প্যাকেটজাত এবং খাদ্যপণ্য। নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বাজারজাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতিমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের জবাব পাওয়া যাবে। জবাব পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান শিল্পসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম জানতে চাইলে তা জানানো হয়নি। কারণ হিসেবে মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, পণ্যগুলো কোম্পানিগুলোর নিজস্ব নাকি নকল পণ্য বাজারে ছাড়া হয়েছে, তা নিশ্চিত না হয়ে নাম বলা ঠিক হবে না। এর আগেও দেখা গেছে, আমরা ট্রাকভর্তি পণ্য আটক করেছি। কিন্তু পণ্যগুলো নকল হিসেবে বাজারে ছাড়া হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা জানান, কোম্পানিগুলোর জবাব পেলে তাদের দেওয়া নমুনা পরীক্ষা করে পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে রোজায় প্রতিদিন ৩টি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানায় বিএসটিআই। ঢাকা মহানগরী এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে ইফতারসামগ্রীর ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে; অর্থাৎ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএসটিআই ১ হাজার ৫৩৭টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানের বিপরীতে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৪৭০টি। জরিমানা করা হয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৫ জনকে। ১০৩টি কারখানা ও পেট্রলপাম্প সিলগালা করা হয়। লাইসেন্স না থাকায় আদালতে মামলা করা হয়েছে ৭১টি। এ সময় তিন কোটি টাকার নকল প্রসাধনসামগ্রী ধ্বংস করা হয়েছে। একটি ভোজ্যতেল কারখানাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।