খাট, সোফা, ডাইনিং টেবিল কিংবা আলমারি—ঘর সাজানোর আসবাবের মেলা চলছে রাজধানীতে। মেলা উপলক্ষে ক্রেতাদের জন্য চলছে ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়। পাশাপাশি নকশা, রং ও প্রযুক্তিতে নতুনত্ব এনেছে দেশীয় ফার্নিচার প্রতিষ্ঠানগুলো।
মেলায় আসা কাঠের আসবাবে অ্যান্টিক ও গোল্ডেন রঙের ব্যবহার বেশি এবং সোফায় কাপড়ের বদলে আসছে কৃত্রিম চামড়ার আবরণ। আবার খাটে যুক্ত হয়েছে এমন প্রযুক্তি—কেউ ওই খাটে বসলে চারদিকে হালকা আলো জ্বলে ওঠে। মেলায় এসেছে গেমিং চেয়ার। এই হলো মেলার চমক।
রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী ২১তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা। বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির (বিএফএসএমএস) আয়োজনে এবারের মেলায় ৪৪টি প্রতিষ্ঠান ৩২৩টি স্টলে নিজেদের পণ্য প্রদর্শন করছে। আয়োজকদের দাবি, মেলায় শুধু দেশে বানানো আসবাব প্রদর্শন করা হচ্ছে।
মেলা চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আইসিসিবির হল-২, হল-৩ ও হল-৪-এ দর্শনার্থীরা মেলা ঘুরে দেখতে পারবেন। প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট লাগবে না।
মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী নকশা ও রঙে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি আসবাবের ব্যবহারিক সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ছোট জায়গায় ব্যবহারযোগ্য সোফা কাম বেড, সহজে পরিষ্কার করা যায় এমন সোফা এবং নতুন প্রযুক্তির খাটও রয়েছে প্রদর্শনীতে।
মেলায় আসা ক্রেতাদের কেউ আসবাব কিনতে এসেছেন, কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নকশা ও দাম তুলনা করছেন। স্ত্রীকে নিয়ে মেলায় এসেছেন খিলক্ষেতের তারেক কায়সার। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানিতে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আসবাব ঘুরে দেখছেন তিনি।
স্ত্রীকে নিয়ে মেলায় এসেছেন ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসিন্দা বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা আবদুল জলিল। তাঁর মতে, আগের মতো পাকা কাঠের আসবাব এখন কম দেখা যায়। নতুন আসবাব দেখতে সুন্দর হলেও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে তাঁর কিছুটা সংশয় রয়েছে। তাই কেনার আগে বিভিন্ন পণ্য দেখছেন এবং তুলনা করছেন তিনি।
অ্যান্টিক ও গোল্ডেন রঙে নতুনত্ব
মেলায় ভিক্টোরিয়ান ও ক্ল্যাসিক্যাল নকশার পাশাপাশি আধুনিক ডিজাইনের ফার্নিচার দেখা গেছে। রঙের ক্ষেত্রে অ্যান্টিক ও গোল্ডেনের ব্যবহারও চোখে পড়ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আখতার ফার্নিচারের নকশায় ভিক্টোরিয়ান ধারা থেকে ক্ল্যাসিক্যাল ও আধুনিক ডিজাইনের দিকে পরিবর্তন এসেছে। মেলায় প্রথমবারের মতো সোনালি রঙের একটি কিং সাইজের খাট এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। যশোরের মেহগনি কাঠের তৈরি খাটটির দাম ৯৪ হাজার টাকা।
অটবির স্টলে গিয়ে দেখা যায়, নতুন আসবাবে অ্যান্টিক রঙের ব্যবহার রয়েছে। ভিক্টোরিয়ান নকশার খাটের চাহিদা রয়েছে। মেলায় অটবির খাটের দাম ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা, আলমারি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ড্রেসিং টেবিল ৪৪ হাজার টাকা।
ব্রাদার্স ফার্নিচারের প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম বলেন, আসবাবে হালকা রঙের ব্যবহার বেশি থাকলেও এখন অ্যান্টিক রঙের দিকে ঝোঁক বেড়েছে। মেলা উপলক্ষে রেক্সিনের হাতলযুক্ত একটি নতুন নকশার সোফার দাম চাওয়া হচ্ছে ৯১ হাজার টাকা।
সোফায় কৃত্রিম চামড়া, বিছানায় সেন্সর
নাদিয়া ফার্নিচারের স্টলে গিয়ে দেখা গেছে, একটি বিছানায় সেন্সর প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। এতে কেউ বসলে চারদিকে আলো জ্বলে ওঠে। খাটটির দাম ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
নাভানা ফার্নিচারের নতুন সোফায় পিইউ বা কৃত্রিম চামড়ার আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ময়লা কম লাগে এবং স্প্রে করে পরিষ্কার করা যায়। নাভানার পাঁচ আসনের একটি সোফার দাম লেখা আছে ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। একই ধরনের আবরণযুক্ত ডাবল সাইজের বিছানার দাম ৬৫ হাজার টাকা।
পারটেক্স ফার্নিচারের প্রতিনিধি খালেদ হোসেন বলেন, কম জায়গায় ব্যবহার করা যায় বলে সোফা-কাম-বেডের চাহিদা রয়েছে। তাঁদের এ ধরনের একটি পণ্যের দাম ৪৫ হাজার টাকা। টি-টেবিলসহ পাঁচ আসনের সোফার দাম ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা এবং কুইন সাইজের বিছানা ৯৫ হাজার টাকা।
গেমিং চেয়ার এনেছে রিগ্যাল
রিগ্যাল ফার্নিচার মেহগনি কাঠের লো-বেডের দাম ৫১ হাজার টাকা। এ ছাড়া নাইলন মেশের তৈরি গেমিং চেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২৩ হাজার টাকায়। এ ধরনের চেয়ারে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার সুবিধা রয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়কর্মী।
ছাড় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত
মেলায় প্রতিষ্ঠানভেদে ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। অ্যাথেনাসের ফার্নিচারে ২৫ শতাংশ ছাড় রয়েছে। সেগুন কাঠের সোফার দাম ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু।
এমজি ১২ শতাংশ, ওমেগা ৫ থেকে ১৫ শতাংশ, পি-টু-পি ১৫ শতাংশ, লিগ্যাসি ১৫ শতাংশ ও নাদিয়া ফার্নিচার ১২ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে।