সমুদ্রপথে লাল–সবুজ পতাকাবাহী সর্ববৃহৎ ট্যাংকার নামাল এমজেএল
বাংলাদেশের বহরে যুক্ত হয়েছে সমুদ্রগামী বিশালাকার নতুন ট্যাংকার। নতুন এই ট্যাংকারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এমটি ওমেরা লিবার্টি’। ইস্ট কোস্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমজেএল বাংলাদেশ এই ট্যাংকার সমুদ্রে ভাসিয়েছে।
ট্যাংকারটি নির্মাণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার দেইহান শিপবিল্ডিং। ২০২৩ সালের ২০ জুলাই নতুন ট্যাংকারটি নির্মাণে শিপইয়ার্ডটির সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল এমজেএলের। এমজেএল নতুন এ ট্যাংকার কেনায় বিনিয়োগ করেছে ৭৫ মিলিয়ন ডলার (বর্তমান ডলারের বিনিময়মূল্যে ৯২২ কোটি টাকা)।
গত বুধবার নতুন এই ট্যাংকারের নামকরণ উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার দেইহান শিপইয়ার্ডে এক অনুষ্ঠানে ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ডেভিড কিম, দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের শিপিং বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মিনহাজুর রেজা চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নতুন ট্যাংকার হিসেবে এটি এখন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ট্যাংকার। প্রায় একই পরিবহনক্ষমতার এমজেএল বাংলাদেশের আরেকটি ট্যাংকার রয়েছে। ‘এমটি ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের ট্যাংকারটি ২০১২ সালের তৈরি। গত বছর এটি বাংলাদেশের বহরে যুক্ত হয়।
জাহাজ নিবন্ধনকারী সংস্থা নৌ বাণিজ্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই ট্যাংকার একসঙ্গে ১ লাখ ১৫ হাজার টন জ্বালানি তেল পরিবহনে সক্ষম। ট্যাংকারটি লম্বায় ২৫০ মিটার।
নৌ বাণিজ্য অফিসের মুখ্য কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, নতুন ট্যাংকারটিসহ বাংলাদেশের বহরে এখন সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা ১০৫–এ উন্নীত হয়েছে। নতুন হিসেবে এমটি ওমেরা লিবার্টি এখন দেশের সবচেয়ে বড় ট্যাংকার। ট্যাংকারটির সাময়িক নিবন্ধন হয়েছে।
উদ্যোক্তারা জানান, বাংলাদেশের বহরে নতুন ট্যাংকার যুক্ত হওয়ায় দেশি জ্বালানি তেল পরিবহনে যেমন ডলার সাশ্রয় হবে, তেমনি বিদেশি জ্বালানি তেল পরিবহন করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। আবার নতুন ট্যাংকারে বাংলাদেশের নাবিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।