বৈচিত্র্যে চাঙা নুডলসের বাজার

ছবি: এআই

দেশে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এখন অন্যতম জনপ্রিয় অনুষঙ্গ নুডলস। শহর ছাড়িয়ে গ্রামবাংলায়ও চটজলদি প্রস্তুতযোগ্য এই খাবারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দেশে নুডলস খাওয়ার হার ও সার্বিক ভোগের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। একসময় যা মূলত বিকেলের বিশেষ নাশতা হিসেবে গণ্য হতো, তা এখন অসংখ্য পরিবারে প্রতিদিনের সহজ ও তৃপ্তিদায়ক খাবারের স্থান করে নিয়েছে।

খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের নুডলসের বাজারে দুটি বড় পরিবর্তন ঘটে চলেছে। প্রথমত, নতুন নতুন পরিবারে নুডলস খাওয়ার প্রচলন তৈরি হওয়া এবং দ্বিতীয়ত, পুরোনো ভোক্তাদের মধ্যে এর খাওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া। বাজারে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে গ্রাম অঞ্চলে। একই সঙ্গে নিয়মিত ভোক্তারা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম—প্রচলিত স্বাদের বাইরে গিয়ে রান্নার নতুন পদ্ধতি, ভিন্নধর্মী স্বাদ ও রোমাঞ্চকর খাবারের অভিজ্ঞতার সন্ধান করছেন। সে অনুযায়ী কোম্পানিগুলো এই পণ্যে বৈচিত্র্য আনছে।

ভোক্তাদের এই পরিবর্তিত চাহিদা সামনে রেখে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিয়ত নতুনত্ব আনার ওপর জোর দিচ্ছে। বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড নেস্‌লে তাদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘ম্যাগি’র মাধ্যমে বাজারে নিয়মিত এই পণ্যে নতুন সংযোজন নিয়ে আসছে। তীব্র আকর্ষক স্বাদের খোঁজে থাকা তরুণদের কথা মাথায় রেখে তারা বাজারে এনেছে ‘হট অ্যান্ড স্পাইসি ব্লাস্ট’ এবং ‘ফ্রায়েড চিকেন ফ্লেভারড নুডলস’-এর মতো পণ্য। এ ধরনের বৈচিত্র্যময় উদ্ভাবন পুরো খাতের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।

তবে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির বাজারে গম, পাম অয়েল এবং প্যাকেজিং সামগ্রীসহ মূল কাঁচামালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এটি শিল্পটির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পণ্যের গুণগত মান ঠিক রেখেই প্রতিটি স্তরে পরিচালন দক্ষতা বাড়িয়ে দাম সহনীয় রাখার চেষ্টা করছে নেস্‌লে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের প্রতিটি উপাদান কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি করা হয়।

বাজারবৈচিত্র্য ও প্রবৃদ্ধির বিষয়ে নেস্‌লে জানিয়েছে, এই খাতের ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধিতে দুটি বিষয় মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে। প্রথমত, সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক হওয়ায় প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাসে এর প্রসার হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক স্বাদ ও ঝাল ফ্লেভারের প্রতি তরুণদের বেশ আগ্রহ। আগামী দিনে কোরিয়ান স্টাইল ও অতিরিক্ত ঝাল স্বাদের পণ্যের চাহিদা আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন কোম্পানির বিশেষজ্ঞরা। সেই অনুযায়ী ম্যাগি ইতিমধ্যেই ‘ম্যাগি কোরিয়ান ক্রিমি অ্যান্ড স্পাইসি’ এনে দারুণ সাড়া পেয়েছে। উচ্চ খাদ্যনিরাপত্তা বজায় রেখে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন পণ্যই আগামী দিনের বাজারে নিয়ে আসবে কোম্পানিটি।