মজুরি বোর্ড না হওয়ায় পোশাকশ্রমিকেরা উদ্বিগ্ন, শ্রমমন্ত্রীকে আইবিসির স্মারকলিপি

ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) সমাবেশে জোটটির সভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিরুল হক আমিন, সহসভাপতি চায়না রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা কুতুব উদ্দিন আহমেদ, রুহুল আমিন, নুরুল ইসলাম প্রমুখ। আজ রোববার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেছবি: আইবিসি

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক–কর্মচারীদের মজুরি বাড়াতে ১০ অক্টোবরের মধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোট ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। আজ রোববার শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে আইবিসি এ দাবি জানায়।

আইবিসি বলেছে, বর্তমান সরকার শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করেছে। পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে, যা পরের মাসে কার্যকর হয়। এর তিন বছর পূর্ণ হবে আগামী নভেম্বরে। নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকর করার সময় ঘনিয়ে এলেও সরকার মজুরি বোর্ড গঠনে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ পর্যন্ত মজুরি বোর্ড গঠিত না হওয়ায় পোশাকশ্রমিকেরা উদ্বিগ্ন।

আজ রোববার শ্রমমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়ার আগে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আইবিসি সমাবেশ করে। জোটটির সভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিরুল হক আমিন, সহসভাপতি চায়না রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা কুতুব উদ্দিন আহমেদ, রুহুল আমিন, নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে আইবিসি বলেছে, সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেল ঘোষণা করেছে। এতে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বেড়েছে। সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ২০ হাজার ১০০ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি বেতন স্কেল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর দাম বাড়তে শুরু করেছে। যে কারণে নিম্ন আয়ের তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা অনেকটাই দিশেহারা।

আইবিসি আরও বলেছে, একই বাজারে উচ্চ, মধ্য বা নিম্ন আয়ের মানুষেরা কেনাকাটা করেন। একদিকে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে, অপর দিকে নিম্ন আয়ের মানুষের বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় প্রচণ্ড বেতনবৈষম্য তৈরি হয়েছে। সে কারণে সরকারি কর্মচারীদের পে স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য শিল্পের শ্রমিকের জন্য নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।

আইবিসি মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে গত ৪ আগস্ট শ্রম মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় মজুরি বোর্ড গঠনে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে আইবিসি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানায়। সেটিও না হওয়ায় আইবিসি তাদের স্মারকলিপিতে হতাশা প্রকাশ করে।

২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা হয়। এ ক্ষেত্রে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ওই মজুরিকাঠামোতে সাতটি গ্রেডের বদলে পাঁচটি গ্রেড করা হয়।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের ১৩০টি দেশে শ্রম অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়ন। এই জোটে অন্তর্ভুক্ত ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ৫৫০। বাংলাদেশে ১৯টি শ্রমিক ফেডারেশন আইবিসির অন্তর্ভুক্ত। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো একতা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, ফেডারেশন অব ওয়ার্কার্স সলিডারিটি, গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ইত্যাদি।