চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি বেড়েছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। এরপর আর কোনো মাসেই রপ্তানি বাড়েনি। সর্বশেষ জানুয়ারিতে রপ্তানি হয়েছে ৪৪১ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। এটি এখন পর্যন্ত এ অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রপ্তানি হলেও গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় দশমিক ৫০ শতাংশ কম। এ নিয়ে টানা ছয় মাস বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস পণ্য রপ্তানি আয় কমছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল সোমবার পণ্য রপ্তানির হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাস জুলাই–জানুয়ারিতে ২৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৮৪১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের ১২ মাসে মোট রপ্তানি হয়েছিল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
জানুয়ারি মাসে হিমায়িত খাদ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য ও চামড়াবিহীন জুতা রপ্তানি বেড়েছে। তবে প্রধান পণ্য তৈরি পোশাকসহ কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে।
এদিকে পণ্য রপ্তানি কমলেও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আরেক গুরুত্বপূর্ণ উৎস প্রবাসী আয় বেড়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৩২২ কোটি ডলার।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৯৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। শুধু জানুয়ারিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৬১ কোটি ডলারের, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কম।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি খাত চামড়া। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ৭১ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। জানুয়ারি মাসে পৌনে ১০ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৬ শতাংশ বেশি।
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক চাহিদা কমেছে। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে অস্থিরতা হতে পারে—এমন শঙ্কায় কিছু ক্রেতা প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রয়াদেশের একটি অংশ অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হলে সেসব ক্রয়াদেশ ফিরবে বলে আশা করা যায়।ফজলে শামীম এহসান, নির্বাহী সভাপতি, বিকেএমইএ
তৃতীয় বৃহত্তম খাত কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য। সাত মাসে এ খাত থেকে রপ্তানি হয়েছে ৬১ কোটি ডলারের পণ্য, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। জানুয়ারি মাসে ৭ কোটি ডলারের কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
চতুর্থ অবস্থানে থাকা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে সাত মাসে আয় হয়েছে ৪৯ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি। জানুয়ারি মাসে সাড়ে ৭ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এতে হয়েছে প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশ।
পঞ্চম শীর্ষ রপ্তানি খাত হোম টেক্সটাইল আয় করেছে ৫১ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। জানুয়ারিতে রপ্তানি হয়েছে ৮ কোটি ৭১ লাখ ডলারের হোম টেক্সটাইল পণ্য, প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ৩১ কোটি ডলারের চামড়াবিহীন জুতা, ৩০ কোটি ডলারের হিমায়িত খাদ্য, ১৭ কোটি ডলারের প্লাস্টিক পণ্য ও ৩৭ কোটি ডলারের প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
কোন দেশে কত রপ্তানি
বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৫২২ কোটি ডলারের পণ্য, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি।
দ্বিতীয় বৃহৎ বাজার জার্মানিতে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। সাত মাসে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ২৮৫ কোটি ডলারের পণ্য, যা আগের বছরে ছিল ৩১৮ কোটি ডলার।
এ ছাড়া জুলাই–জানুয়ারি সময়ে যুক্তরাজ্যে ২৭৮ কোটি ডলার, স্পেনে ২২৫ কোটি ডলার ও নেদারল্যান্ডসে ১৪৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যুক্তরাজ্যে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ, স্পেনে সাড়ে ৬ শতাংশ ও নেদারল্যান্ডসে ৩ শতাংশ বেড়েছে রপ্তানি।
জানুয়ারি মাসে পণ্য রপ্তানিতে অধিকাংশ খাত ইতিবাচক ধারায় থাকলেও প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে সামগ্রিকভাবে রপ্তানি কমেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক চাহিদা কমেছে। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে অস্থিরতা হতে পারে—এমন শঙ্কায় কিছু ক্রেতা প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রয়াদেশের একটি অংশ অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হলে সেসব ক্রয়াদেশ ফিরবে বলে আশা করা যায়।