শুধু ভোগ্যপণ্যই নয়, আমদানি বাণিজ্য থেকে বেরিয়ে এমন অনেক খাতে শিল্পায়নে পালাবদল ঘটাচ্ছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। কোনো কোনো খাতে মৌলিক শিল্প গড়ার পথে ধাপ কমে আসছে। কোনো কোনো খাতে মূল কাঁচামাল ব্যবহার করে শিল্পকারখানা চালু হয়েছে। উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনায়ও স্থান পাচ্ছে এখন মৌলিক শিল্প।  

এ দেশে সরকারি খাতে শিল্পের ইতিহাস অনেক পুরোনো। সার, কাগজকল, সিমেন্ট, জ্বালানি, পাটকল ও চিনিকলের মতো মৌলিক শিল্পকারখানা দিয়ে এ দেশে সরকারি খাতে মৌলিক শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে বহু আগেই। আর সাড়ে তিন দশক আগে কারখানা গড়তে সরকারি বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার পরই শুরু হয় বেসরকারি খাতে শিল্পায়ন। শুরুটা হয়েছিল মধ্যবর্তী কাঁচামাল আমদানি করে প্রস্তুত পণ্য তৈরির কারখানা এবং যন্ত্রাংশ সংযোজন করে প্রস্তুত পণ্য তৈরির কারখানার মাধ্যমে।

দুই-তিন দশক আগে দেশে চাহিদা ছিল খুবই কম। ফলে বেসরকারি খাতে বড় কারখানা তেমন হয়নি। গ্রুপগুলোর সক্ষমতাও ছিল কম। বড় শিল্প গড়ার পথে গ্যাস-বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও আর্থিক সুবিধারও সে সময় খুব বেশি প্রসার হয়নি। এ অবস্থা পাল্টে যায় বিংশ শতকে এসে। এসব সুবিধা প্রসারের পাশাপাশি এক দশক ধরে ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদা উদ্যোক্তাদের বড় কারখানায় বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। তাতে শিল্প গ্রুপগুলোর সক্ষমতাও বেড়েছে। দেশে বড় বাজার তৈরি হওয়ায় এখন মৌলিক শিল্পের কারখানার সংখ্যা বাড়ছে। আমদানিতে প্রস্তুত পণ্য ও মধ্যবর্তী কাঁচামালের জায়গা ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে মূল কাঁচামাল।

বাংলাদেশে অনেক খাতে প্রথম কারখানা স্থাপন করে ৫০ বছর বয়সী টিকে গ্রুপ। গ্রুপটির পরিচালক মোস্তফা হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মৌলিক কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদনের পথে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। শিল্পায়নের মূল পর্বে যেতে অনেক খাতে ধাপ কমে আসছে। অনেক খাতে মূল পর্বে পথচলা শুরু হয়েছে আমাদের। শিল্পায়নের জন্য যেসব সুবিধা দরকার, তা থাকলে আগামী এক দশকে মৌলিক শিল্পায়নে গতি আসবে।’

পালাবদল যেসব খাতে

প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদনের কারখানায় মূলত মৌলিক শিল্প। মৌলিক শিল্পের প্রধান প্রধান খাতের কাঁচামাল কৃষিজাত পণ্য ও খনিজ পণ্য। খনি থেকে আহরিত আকরিক, কয়লা, চুনাপাথর, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার হয় মৌলিক শিল্পকারখানায়। এসব থেকেই তৈরি হয় হাজারো শিল্পের কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্য।

মৌলিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য অর্থায়ন-সুবিধা ও সরকারের নীতিসহায়তাও দরকার। এক দশকে ধীরে ধীরে এসব নীতিসহায়তার কিছুটা পেয়েছেন উদ্যোক্তারা, তাতে তাঁরা বড় বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছেন।

শিল্প খাতের পরিবর্তনের তথ্য মেলে কাস্টমসের রাজস্ব পর্যালোচনার নথিতেও। প্রতি অর্থবছর শেষে চট্টগ্রাম কাস্টমস রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ তৈরি করে। গত এক দশকে কাস্টমসের বিশ্লেষণে নিয়মিত কোনো না কোনো প্রস্তুত পণ্য বা মধ্যবর্তী কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়ার তথ্য আছে। এতে শুল্ক কমে গেলেও কারখানা যে গড়ে উঠছে, সেটিও তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

যেমন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি কমে যাওয়ার নেপথ্যে দেশে সয়াবিন বীজ থেকে তেল ও সয়া কেক তৈরির কারখানা গড়ে ওঠাকেই প্রধান কারণ বলছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। একইভাবে কাচ, সিরামিকস, বিলেট, ইলেকট্রনিকস পণ্য, অটোমোবাইল খাতে প্রস্তুত পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে দেশে উৎপাদন বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে কাস্টমসের বিশ্লেষণে।

ইস্পাতে নতুন যুগ

শিল্পের সবচেয়ে বড় খাত ইস্পাত। বছর পাঁচেক আগেও রড তৈরির মধ্যবর্তী কাঁচামাল ‘বিলেট’ আমদানি হতো। বছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৪-১৬ লাখ টন। দেশে বিলেট কারখানা থাকলেও উৎপাদন ছিল খুবই কম। চাহিদা বাড়ায় এ অবস্থা পাল্টে যায় বছর পাঁচেক ধরে। কয়েক বছর ধরে বিলেট আমদানি শূন্যের কোঠায় নেমেছে।

রড তৈরির প্রাথমিক কাঁচামাল পুরোনো লোহার টুকরো ব্যবহার করেই প্রথমে বিলেট ও বিলেট থেকে রড উৎপাদিত হচ্ছে। বিএসআরএম, আবুল খায়ের, জিপিএইচ ইস্পাত, কেএসআরএমের মতো কোম্পানিগুলো এখন দেশের বাজারে বিলেটের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করছে। আবার আমদানির পরিবর্তে ইস্পাত পাত পরিশোধনের কারখানাও চালু হয়েছে, যেটি দিয়ে ঢেউটিনসহ ইলেকট্রনিকসের নানা পণ্য তৈরি হচ্ছে।

ইস্পাতশিল্পের কাঁচামালে দ্রুত রূপান্তরের পর এখন মৌলিক শিল্প গড়ার পথেই হাঁটছেন উদ্যোক্তারা। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের পিএইচপি গ্রুপ বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক জোনে ৫০০ একর জায়গায় ইস্পাতের পাত তৈরির প্রথম মৌলিক কারখানা গড়ে তোলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই কারখানায় মৌলিক কাঁচামাল আকরিক লৌহ ও কয়লা ব্যবহার করে উৎপাদিত হবে অপরিশোধিত ইস্পাতের পাত। ইস্পাত পাত থেকে ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, ইলেকট্রনিকস, মুঠোফোন, গাড়ি, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি, গৃহস্থালিতে ব্যবহার্য হাজারো পণ্য তৈরি হবে।

জানতে চাইলে পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফী মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মৌলিক ইস্পাত পাতের কারখানা গড়ে তোলা আমার বড় স্বপ্ন। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে এই কারখানায় সম্ভাব্য ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। প্রথম ধাপে ১০ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত পাত তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। দেশের গর্বের প্রতিষ্ঠান হবে এই কারখানা।’  

প্লাস্টিক খাতে পালাবদল

প্লাস্টিকশিল্পের প্রায় পাঁচ হাজার কারখানা মধ্যবর্তী কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন করে আসছে। গত অর্থবছরে প্লাস্টিকশিল্পের মধ্যবর্তী কাঁচামাল ও সরঞ্জাম আমদানি হয় প্রায় সাড়ে ৪ বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের। আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩ লাখ টন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় পিভিসি ও পেট রেজিন।

বিশাল এই বাজারে কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা কমাতে বিনিয়োগ শুরু করেছেন এ দেশের উদ্যোক্তারা। নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ বছর মধ্যবর্তী কাঁচামাল পিভিসি ও পেট রেজিন উৎপাদনের কারখানা চালু করেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)। এ কারখানায় বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি ডলার। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে এগিয়ে চলছে টিকে গ্রুপের যৌথ উদ্যোগের মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেড কারখানার উৎপাদন। এ কারখানায় টেক্সটাইল গ্রেডের পেট রেজিন অর্থাৎ মধ্যবর্তী কাঁচামাল উৎপাদিত হবে।

এই খাতে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনায় আছে মৌলিক শিল্প গড়ার। মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্লাস্টিকের কাঁচামাল তৈরির পেট্রোকেমিক্যালশিল্পে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে। সেখানে মৌলিক কাঁচামাল ব্যবহার করে প্লাস্টিক, টেক্সটাইলসহ বহু শিল্প খাতের কাঁচামাল তৈরি হবে।

রাসায়নিক খাতে মৌলিক শিল্প

রাসায়নিক খাতে মৌলিক শিল্পে পদার্পণও এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। মূল কাঁচামাল ব্যবহার করে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড তৈরি হচ্ছে দেশে। দেশে এই শিল্পের পাঁচটি কারখানা চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করছে পণ্য। এখন ফুডগ্রেড ছাড়া শিল্পগ্রেডের হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড কার্যত আমদানি হয় না।

হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ছাড়া আরেক রাসায়নিক কস্টিক সোডা খাতেও মূল শিল্প গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তারা। এই শিল্পের মূল কাঁচামাল লবণ। এই খাতের কারখানায় কস্টিক সোডা ছাড়াও ক্লোরিন ও হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড উৎপাদিত হচ্ছে।

কস্টিক সোডা কারখানার উৎপাদিত পণ্য ক্লোরিন ব্যবহৃত হচ্ছে প্লাস্টিকশিল্পের কাঁচামাল পিভিসি কারখানায়। রাসায়নিক খাতের কাঁচামাল উৎপাদনের এমন কারখানার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

অটোমোবাইল-ইলেকট্রনিকসে রূপান্তর

স্বাধীনতার আগেই চট্টগ্রামের প্রগতি কারখানার মাধ্যমে গাড়ি সংযোজনশিল্পের সূচনা হয়। প্রায় ৫৬ বছরে সরকারি গাড়ি কারখানা প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সংযোজনশিল্পে আটকে থাকলেও এগিয়ে এসেছে বেসরকারি উদ্যোক্তারা। চট্টগ্রামের পিএইচপি গ্রুপ সংযোজন থেকে গাড়ি উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গাড়ি উৎপাদনের পাঁচ ধাপের মধ্যে তিন ধাপে রয়েছে গ্রুপটি। ফেয়ার টেকনোলজি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে, মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে গাড়ি উৎপাদনের কারখানা গড়ে তুলছে। 

আবার সংযোজন থেকে ইলেকট্রনিকস পণ্য তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে দেশে। মুঠোফোন, টেলিভিশন, ফ্রিজসহ নানা পণ্য তৈরির কারখানা হয়েছে দেশে। ধীরে ধীরে এসব খাতের মূল্য সংযোজন বাড়ছে। দেশে স্বীকৃত উৎপাদনের সংজ্ঞায় স্থান পেয়েছে এসব খাত। নতুন নতুন যন্ত্রাংশ উৎপাদনের মাধ্যমে এসব খাত মৌলিক শিল্পে পালাবদলের পথে এগোচ্ছে। 

অন্যান্য খাত

দেড় দশক আগে বেসরকারি খাতে কাচশিল্পে মৌলিক কারখানা গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তারা। গত এক দশকে এই খাতের বেশ সম্প্রসারণও হয়েছে। উৎপাদনের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন পণ্য। সিরামিকস খাতের অনেক উপ খাতে উৎপাদনে এখন দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। গত কয়েক বছরে অনেকগুলো কারখানা হয়েছে এ দেশে। মূল কাঁচামাল ব্যবহার করেই তৈরি হচ্ছে সিরামিকস পণ্য। পুরোনো কয়েকটি খাতে অনেক আগেই মৌলিক শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। বেসরকারি খাতের হাত ধরে এখন বড় শিল্পে রূপান্তর হচ্ছে এসব খাত। বস্ত্র খাত তারই একটি। আবার পাট ও চামড়াশিল্পেও বেসরকারি খাত এগিয়ে এসেছে। আসবাব খাতে ছোট ছোট মৌলিক কারখানাও গড়ে উঠেছে। এ রকম ছোট-বড় অনেক খাতে পালাবদল ঘটছে।

পালাবদলে যাঁরা

বেসরকারি খাতে মৌলিক ও আধা মৌলিক কারখানা যাঁরা গড়ে তুলছেন, তাঁদের বিকাশ হয়েছে পুঁজির ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে। নিজ শহরে পণ্য বেচাকেনার মতো ছোট ব্যবসা থেকে যাত্রা শুরু করেছেন তাঁরা। পরে আমদানি ব্যবসা করে পুঁজি বাড়িয়েছেন। এরপর সেই পুঁজি খাটিয়ে প্রথমে সংযোজন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের শিল্পকারখানা গড়ে তুলেছেন। পুঁজি আরও বাড়ার পর আধা মৌলিক ও মৌলিক শিল্প গড়ায় মনোযোগ দিয়েছেন তাঁরা। টিকে গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, আবুল খায়ের গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, আনোয়ার গ্রুপ, ওয়ালটন, বিএসআরএম গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠান এভাবেই এ দেশের শিল্পায়নে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে।

শিল্পকে প্রাধান্য দেওয়া দরকার

বাংলাদেশে শিল্পের পালাবদলের বর্তমান সময়ে এসে নানা ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর তৈরি হওয়া এই সংকট ব্যাপক প্রভাব ফেলছে শিল্প খাতে। গ্যাসের চাপ কম, বিদ্যুৎ-সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আবার মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতেও জটিলতার শিকার হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। তাই সংকটের সময় শিল্প খাতকে প্রাধান্য দেওয়া না হলে শিল্পায়নের পালাবদলে বড় বাধা তৈরি হবে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।

জানতে চাইলে সী কম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, শিল্পের রূপান্তর অব্যাহত রাখতে হলে উদ্যোক্তা ও শিল্পকে সুরক্ষা দিতে হবে। এ জন্য সবার আগে দরকার নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুতের সুবিধা। যেসব পণ্য দেশে উৎপাদিত হয়, সেগুলো আমদানিতে করভার বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করতে হবে। কারণ, কোনো দেশেই সরকারের নীতিসহায়তা ছাড়া মৌলিক শিল্পে বিপ্লব হয়নি।