উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব হস্তশিল্প ব্যবসায়ীদের

হস্তশিল্প

হস্তশিল্প খাতে বর্তমানে ১ শতাংশ উৎসে কর রয়েছে। এটিকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ হস্তশিল্প প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি বা বাংলাক্রাফট। এ ছাড়া এ খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণ, কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা ও পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধির মতো কিছু প্রস্তাব রয়েছে সংগঠনটির।

বাজেট প্রস্তাবনায় বাংলাক্রাফট বলেছে, হস্তশিল্প খাতে কাঁচামালের দাম, উৎপাদন খরচ ও মজুরি—গত তিন বছরে অনেক বেড়েছে। ফলে এ খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে হস্তশিল্প খাতে উৎসে কর কমানো প্রয়োজন।

সাধারণত মাটি, বাঁশ, বেত কিংবা হোগলাপাতার মতো কাঁচামাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের হস্ত ও কারুপণ্য বানানো হয়। ২০২২ সালে করা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপ অনুসারে, দেশে হস্ত ও কারুশিল্পের বাজার ২ হাজার ৪৩০ কোটি টাকার বেশি। শহর-গ্রামনির্বিশেষে প্রতিবছর এ বাজার বড় হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এ ধরনের পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদাও রয়েছে।

কয়েক বছর ধরে হস্তশিল্প পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ খাত নিয়ে আলাদা নীতিমালাও হয়েছে, তবে সম্ভাবনার তুলনায় রপ্তানি বাড়ছে না। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুসারে, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় তিন কোটি ডলারের হস্তশিল্প পণ্য রপ্তানি হয়। তবে রপ্তানির এ পরিমাণ বাস্তবে আরও বেশি বলে দাবি বাংলাক্রাফটের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২১ জানুয়ারি হস্তশিল্পকে ২০২৪ সালের বর্ষপণ্য ঘোষণা করেছেন। উদ্যোক্তারা জানান, সম্ভাবনা থাকলেও ব্যয় বৃদ্ধি, স্বল্প পুঁজি ও প্রশিক্ষণের অভাবে তাঁরা এগোতে পারছেন না। এ খাতকে এগিয়ে নিতে হলে বাজেটে নীতিসহায়তা দরকার।

নকশা কেন্দ্র ও কারুপল্লির দাবি

বাংলাক্রাফটের নেতারা  জানান, রপ্তানি বৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হস্তশিল্প পণ্যের মান উন্নয়ন ও বৈচিত্র্য আনা জরুরি। এ জন্য তিন দশক ধরে তাঁরা একটি নকশা ও গবেষণাকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে দীর্ঘদিনেও সে দাবি বাস্তবায়িত হয়নি।

অন্যদিকে, দেশে কোনো কারুপল্লি না থাকায় দেশি-বিদেশি ক্রেতারা একটি স্থান থেকে হস্তশিল্পজাত পণ্য বাছাইয়ের সুযোগ পান না। এতে হস্তশিল্পের বাজার সম্প্রসারণ ও নতুন বাজার সৃষ্টি হচ্ছে না। এমন বাস্তবতায় আগামী বাজেটে হস্তশিল্পের জন্য একটি নকশা ও গবেষণাকেন্দ্র এবং একটি কারুপল্লি তৈরিতে বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করেছেন ব্যবসায়ীরা।

আগে হস্তশিল্পের ব্যবসায়ীরা পণ্য রপ্তানিতে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা বা ভর্তুকি পেতেন। ২০২০ সালে তা কমিয়ে ৮ শতাংশ করা হয়। এটিকে আবার ১৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। বাংলাক্রাফটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশরাফুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছরে এ শিল্পের কাঁচামালের দাম, মজুরি, সরবরাহ খরচ—সবই বেড়েছে। তবে ক্রেতারা সে তুলনায় দাম বাড়াতে আগ্রহী নন। এমন পরিস্থিতিতে নগদ সহায়তা বাড়ানো না হলে তা এ খাতের জন্য বড় চাপ তৈরি করবে।  

বাজেট প্রস্তাবনায় বাংলাক্রাফট বলেছে, দেশে দিন দিন হস্তশিল্পের কাঁচামালের জোগান কমছে। এভাবে চলতে থাকলে এই শিল্প কাঁচামাল সমস্যায় সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়বে। ফলে এখনই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে বাণিজ্যিকভাবে কাঁচামাল উৎপাদন শুরু করতে হবে।

হস্তশিল্পের রপ্তানিমুখী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে তাঁদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এ ছাড়া হস্ত ও কারুশিল্পকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করার জন্য দেশের প্রধান দুই বিমানবন্দরে প্রদর্শনীকেন্দ্র স্থাপন এবং বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ এনে পণ্যভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে বাংলাক্রাফট।