ট্যানারিমালিকেরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তদার ও মৌসুমি কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লবণযুক্ত চামড়া ধাপে ধাপে করা হবে। এরপর শুরু হবে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন ধাপ। তখন উৎপাদিত তরল ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চামড়া শিল্পনগরের ট্যানারিমালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন ট্যানারিগুলোতে ৩ লাখ ৪৬ হাজার কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়। ঈদের পরদিন অর্থাৎ সোমবার সংগ্রহ করা হয় ১৯ হাজার। আর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৩ হাজার ২০০টি চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ট্যানারিগুলো মূলত লবণযুক্ত চামড়া সংগ্রহ করে। তবে ঈদের দিন সাভার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো লবণ মাখিয়ে ট্যানারিতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। তবে লবণযুক্ত চামড়া আগামী সপ্তাহ থেকে ট্যানারিতে আসা শুরু হবে। বর্তমানে এ শিল্পনগরে ১৪০টি ট্যানারি উৎপাদনে রয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সালমা ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাখাওয়াত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, মূলত কোরবানির ঈদের কয়েক দিন পর থেকে লবণযুক্ত চামড়া সংগ্রহ করেন ট্যানারিমালিকেরা।

সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার চামড়া শিল্পনগরে গিয়ে দেখা যায়, কাজ না থাকায় অধিকাংশ ট্যানারিশ্রমিক অলস সময় কাটাচ্ছেন। ফেনী ট্যানারির সামনে দেখা গেল বেশ কয়েকজন শ্রমিক আড্ডা দিচ্ছেন। তাঁদেরই একজন মো. খোরশেদ। তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন প্রচুর কাজ ছিল। আজ (মঙ্গলবার) একদমই কাজ নেই।’

শিল্পনগরের ডাম্পিং ইয়ার্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ট্যানারি থেকে কঠিন বর্জ্য ওই এলাকায় ফেলা হচ্ছে। উন্মুক্ত স্থানে এ বর্জ্য ফেলায় বাতাসে তীব্র ঝাঁঝাল গন্ধ ছড়াচ্ছে। তবে কঠিন বর্জ্যের বাড়তি চাপ সামাল দিতে ডাম্পিং ইয়ার্ডে গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে। সপ্তাহখানেক পর ট্যানারিগুলোতে আসা চামড়া প্রক্রিয়াকরণ শুরু হলে, তখন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, এখন তো চামড়ার তেমন চাপ নেই, তাই তেমন বর্জ্যও নেই। সারা দেশ থেকে চামড়া আসা শুরু হলে কি পরিস্থিতি হবে তা বলা কঠিন। তখন দূষণ বেড়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্টেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক আহমেদ বলেন, কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের (সিইটিপি) তরল বর্জ্য ধারণক্ষমতা ২৫ হাজার ঘনমিটার। তরল বর্জ্যের পরিমাণ যেন তার বেশি না হয়, সে জন্য ট্যানারিমালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ওয়াটার ও ফ্লো মিটার স্থাপন করা হয়েছে এবং ট্যানারির উৎপাদনক্ষমতা অনুসারে তরল বর্জ্যের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন