দেশে গ্যাসের সংকট অনেক দিন ধরে। এতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চাহিদা বাড়ছে। অথচ শর্তের পর শর্ত দিয়ে এলপিজি ব্যবসা কঠিন করে ফেলা হচ্ছে। এ খাতে নিয়ন্ত্রণ বা রেগুলেটরি সংস্কার করা না হলে অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘এলপিজি বাজারে রেগুলেটরি চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামের গোলটেবিল বৈঠকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জ্বালানিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ম তামিম এ কথা বলেন। এলপিজি অপারেটর অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সহায়তায় এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে পাক্ষিক এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার। অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ, ভোক্তা অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বর্তমানে এলপিজির যে সংকট, তা সরবরাহজনিত সংকট। গত নভেম্বর পর্যন্ত ১৭০টি জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছিল। ডিসেম্বরে আরও ২৯টি জাহাজ নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে। ইরান থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। চীনের মতো বড় ক্রেতারাও এখন বৈশ্বিক এলপিজি বাজার থেকে কিনছে। তাই এলপিজি কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে এলপিজির সংকট ও চড়া দামের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন সাংবাদিকেরা। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আমদানিকারকদের কেউ কেউ বলেন, বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়। আর কেউ কেউ বলেন, আমদানিকারকেরা সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সরবরাহ করছেন। বাজারে বাড়তি দাম নিচ্ছেন পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা।
চলমান সংকটের জন্য সরকারকে দায়ী করেন লোয়াব সভাপতি আমিরুল হক। তিনি বলেন, লোয়াবের ৫ সদস্য কোম্পানি ১ বছর আগে আমদানি বাড়াতে অনুমোদন চেয়েছিল। এক বছর পর চিঠির জবাবে মন্ত্রণালয় বলেছে, এটা নীতিমালা অনুমোদন করে না। এরপর আবার চিঠি দেওয়া হয়েছে গত আগস্টে। নতুন প্ল্যান্টের অনুমোদন চাইলেও দেয়নি। এরপরও লোয়াবরে দায়ী করার কোনো যুক্তি নেই।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, এলপিজি বাজারে নাই। অথচ বাড়তি টাকা দিলে বাসায় চলে আসছে। পকেট ভরার জন্য এ সংকট। বেসরকারি খাত দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ হবে না। রাষ্ট্রীয় খাতের সক্ষমতা বাড়িয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে হবে।
বিএনপি নেতা জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, এলপিজি পাওয়া নিয়ে মানুষ ঝুঁকির মধ্যে আছে। সামগ্রিকভাবে এটা জাতীয় সমস্যা, সেভাবেই বিষয়টি দেখতে হবে। কারও একক স্বার্থে নয়। এ রকম একটা জরুরি খাতকে টেকসই করা দরকার।
জেএমআই গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বলেন, ক্রেতা তো ২ হাজার টাকায় সিলিন্ডার নিতে চান। তাহলে দামটা ২০০ টাকা বাড়িয়ে দিলেই হয়। এতে আমদানিকারকও বাঁচবে।
যমুনা এলপিজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেলায়েত হোসেন বলেন, কেউ কারসাজি করেনি। আমদানি কম হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, প্রতি সিলিন্ডারে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা বাড়তি গেল, এটা কার পকেটে গেল; তা বের করা দরকার।