নির্মাণশিল্পের প্রধান দুই উপকরণ, রড ও সিমেন্টের কাঁচামাল শতভাগ বিদেশনির্ভর। ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণপত্র বা এলসি খুলে কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষ করে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আনতে প্রায় দুই মাস সময় লাগে। আবার কাঁচামাল আসার পর পণ্য উৎপাদন করে বাজারজাত করতে আরও দুই মাস লাগে। এ কারণে ব্যাংকে এলসি খোলার সময় কখনো ১২০ দিন, আবার কখনো ১৮০ দিনে বিলম্ব পরিশোধ বা ডেফার্ড সুবিধা নিয়ে থাকে আমদানিকারকেরা। আমদানি ঋণপত্র খোলার সময় ডলার বা সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার যে দাম থাকে, সেই অনুযায়ী উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্য নির্ধারিত হয়। কিন্তু বর্তমানে এসে দেখা যাচ্ছে এলসির ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে আমাদের। কারণ, ডলারের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এতে রড ও সিমেন্ট খাতের বেশির ভাগ কোম্পানিকে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এখন ডলার–সংকট ও দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় কাঁচামাল আমদানি যেভাবে ব্যাহত হচ্ছে, তাতে নিকট ভবিষ্যতে দেশে নির্মাণসামগ্রীর সংকট দেখা দিতে পারে। আবার ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি পর্যায়ে কাস্টমস ডিউটি, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ও অগ্রিম করও বেড়ে গেছে।

সব দিক থেকেই শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। ফলে গত অর্থবছর শেষে সিমেন্ট খাতে সোয়া ৭ শতাংশের মতো নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে চলতি অর্থবছর ৯ শতাংশের বেশি নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হবে। আবার খরচ কমাতে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাবও এ খাতে পড়বে। এরই মধ্যে উৎপাদন কমাতে শুরু করেছেন শিল্পমালিকেরা।

চলমান এ সংকট দীর্ঘদিন চলতে থাকলে পুরো খাতটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেটি হলে প্রথম ধাক্কা লাগবে কর্মসংস্থানে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ডলারের দাম নিয়ে ব্যাংক খাতে কিছুটা অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এ অস্থিরতা কমানো গেলে আমদানিকারক ও শিল্পমালিকদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে।

মো. আলমগীর কবির

সভাপতি, বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ) ও ভাইস চেয়ারম্যান, ক্রাউন সিমেন্ট

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন