কনফিডেন্স সিমেন্টর নতুন কারখানা থেকে সর্বোচ্চ মানের সিমেন্ট সরবরাহের প্রতিশ্রুতি

কনফিডেন্স সিমেন্ট ঢাকার নতুন কারখানায় উৎপাদিত সিমেন্টের বাজারজাতকারণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে র‍্যাফল ড্রয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কোম্পানিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। আজ শুক্রবার রাতে রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলেছবি: প্রথম আলো

নরসিংদীর পলাশে স্থাপতি নতুন কারখানা থেকে সর্বোচ্চ মানের সিমেন্ট সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কনফিডেন্স সিমেন্ট ঢাকা লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জহির উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, নতুন কারখানায় এ-গ্রেডের ক্লিংকার ও ভিআরএম প্রযুক্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ মানের সিমেন্ট উৎপাদন করা হবে। এরপর সেই সিমেন্ট সারা দেশে বাজারজাত করা হবে।

নরসিংদীর পলাশে স্থাপিত কনফিডেন্স সিমেন্টের নতুন কারখানায় উৎপাদিত সিমেন্টের বাজারজাতকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন জহির উদ্দিন আহমেদ। রাজধানীর বনানীতে শেরাটন হোটেলে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কনফিডেন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, ভাইস চেয়ারম্যান রুপম কিশোর বড়ুয়া ও ইমরান করিম, প্রধান বিপণন কর্মকর্তা নাসির উল আলম; বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ; প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) শামস আবদুল্লাহ মোহাইমেন; বাংলাদেশ স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল্লাহ আল হোসাইন প্রমুখ। এ ছাড়া প্রকৌশলী, স্থপতি, পরিবেশক, ব্যাংকার, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কনফিডেন্স সিমেন্ট ঢাকার সিইও জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ৩২ বছর আগে তিন বন্ধু মিলে দেশে বেসরকারি খাতে প্রথম সিমেন্ট কারখানা গড়ে তোলেন। তাঁদের তখন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না, অর্থও ছিল না; তবে ছিল অদম্য উদ্যম। নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই তিন তরুণ উদ্যোক্তা আজকের পর্যায়ে কনফিডেন্স সিমেন্টকে নিয়ে এসেছেন।

নতুন কারখানা স্থাপনে কনফিডেন্স সিমেন্ট ৭৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এই বিপুল অর্থায়ন করেছে প্রাইম ব্যাংক। ব্যাংকের এই অর্থ জনগণের টাকা, তা দ্রুত ফেরত দেওয়ার দায়িত্বের কথা নিজের বক্তব্যে স্মরণ করেন সিইও। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের কাজ করোনার আগেই শুরু হয়েছিল। কাজ শেষ করতে পাঁচ-ছয় বছর লেগে যাওয়ায় অনেকেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এখন উৎপাদন শুরু হওয়ায় তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, আশির দশকে দেশে সিমেন্টের সংকট ছিল। বেসরকারি খাত থেকে কনফিডেন্স গ্রুপ প্রথম সিমেন্ট বাজারে আনে। পরবর্তী সময়ে আরও অনেক কোম্পানি আসায় এখন মানসম্মত সিমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে। এখন আরও উন্নত সিমেন্ট উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। জলবায়ু সহনশীল সিমেন্ট উৎপাদনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর তিনি জোর দেন।

কনফিডেন্স সিমেন্টের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা নাসির উল আলম বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথে রয়েছে। এ কারণে উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। এই পথচলায় মানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দায়িত্বশীল অংশীদার হতে চায় কনফিডেন্স গ্রুপ।