আরএফএস ফ্যাশনওয়্যারের মহাব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন বলেন, ডাইং কারখানায় একসঙ্গে অনেক কাপড় রং করা হয়। এ প্রক্রিয়ার মাঝপথে কোনো কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলে বা মেশিন বন্ধ হয়ে গেলে পুরো প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। কাপড়ের রং ও মান ঠিক থাকে না। তাতে অনেক কাপড় নষ্ট হয়। এতে উৎপাদন কমে যায়। এখন লোডশেডিংয়ের কারণে প্রতিদিন দুই বেলা জেনারেটর চালাতে গিয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে।

টঙ্গী বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৪ সালে যাত্রা শুরু করা বিসিকে বর্তমানে সচল শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৩৮টি। এর মধ্যে ৫৭টি প্রতিষ্ঠানই বস্ত্র ও বস্ত্রজাত পণ্যের। সব কটিই শতভাগ রপ্তানিমুখী। এর বাইরে রয়েছে ওষুধ, কেমিক্যাল, খাদ্যপণ্য প্রস্তুত ও বাজারজাতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে নতুন ও ছোট ছোট কারখানাও রয়েছে বেশ কিছু। চলমান বিদ্যুৎ–সংকটের এ সময় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় ছোট ও নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে একাধিক উদ্যোক্তা জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টঙ্গী বিসিকের নতুন এক কারখানার মালিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যারা নতুন উদ্যোক্তা, তাদের প্রতিমুহূর্তে হিসাব–নিকাশ করে চলতে হয়। সবকিছু গুছিয়ে মোটামুটি আয়-ব্যয় সমান সমান অবস্থায় এসেছিলাম। এমন এক সময়ে বিদ্যুতের সংকট দেখা দিল। তাই খরচের চাপ বেড়েছে। এ চাপ সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

টঙ্গী বিসিকের সবচেয়ে বড় পোশাক কারখানা জাবের অ্যান্ড জুবায়ের ফেব্রিকস। প্রায় ১১ হাজার শ্রমিক কাজ করেন কারখানাটিতে। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক মো. কায়েস জানান, ‘চলমান বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে আমাদের খরচ কমপক্ষে ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে যারা আমাদের মালামাল সরবরাহ করে, তাদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন