তুরস্কে ওষুধ রপ্তানির দুয়ার খুলল রেনাটার

ওষুধ কোম্পানি রেনেটা

এবার তুরস্কের বাজারে ওষুধ রপ্তানির দুয়ার খুলল দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান রেনাটার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, রেনাটার গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরের কারখানাটি তুরস্কের ওষুধ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা টার্কিশ মেডিসিন অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইস এজেন্সির অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে রাজেন্দ্রপুর কারখানায় উৎপাদিত ওষুধ তুরস্কে রপ্তানি করতে পারবে রেনাটা।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে রেনাটা গতকাল বৃহস্পতিবার তুরস্কের ওষুধ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের এ তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। রেনাটা জানিয়েছে, তুরস্কের বাজারটি তাদের জন্য কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের সংযোগস্থল। পাশাপাশি তুরস্কের এই অনুমোদন আন্তর্জাতিক বাজারে রেনাটার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে, বাড়বে প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি। এরই মধ্যে রেনাটা ইউরোপের বাজারে ওষুধ রপ্তানির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস বা ইইউ জিএমপি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ সনদ পেয়েছে।

রেনাটাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে কোম্পানিটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। এর মধ্যে রেনাটার সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার আয়ারল্যান্ডসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেনাটা ওষুধ রপ্তানি করে আয় করেছে ২১৮ কোটি টাকা। সূত্রটি বলছে, তুরস্কে ওষুধ রপ্তানির অনুমোদন পেলেও দেশটিতে রপ্তানি শুরু করতে এক বছর সময় লাগবে। আর রপ্তানি শুরু হলে তা কোম্পানির সার্বিক আয় ও মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

রেনাটার সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৬১টি দেশে রেনাটার উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে নতুন বাজার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ফ্রান্স, সুইডেন, সাইপ্রাস, কসোভো, ইকুয়েডর, পাপুয়া নিউগিনি, তাজিকিস্তানের মতো দেশ। সর্বশেষ অনুমোদন মিলল তুরস্কের।

রপ্তানি বাজারের পাশাপাশি দেশের বাজারেও ওষুধ খাতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে রেনাটা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি সমন্বিতভাবে (সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ) ৪ হাজার ২৮৯ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। রপ্তানি বাজারের জন্য রেনাটার রয়েছে সহযোগী দুটি প্রতিষ্ঠান। একটি রেনাটা ইউকে এবং অন্যটি রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস আয়ারল্যান্ড। তার আগের, অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কোম্পানিটি ব্যবসা করেছিল ৩ হাজার ৭৭১ কোটি টাকার। সেই হিসাবে ১ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়েছে ৫১৮ কোটি টাকার বা প্রায় ১৪ শতাংশ। দেশের বাজারের চেয়ে রপ্তানি বাজারেই কোম্পানিটির মুনাফা প্রবৃদ্ধি বেশি ছিল। ব্যবসা বাড়লেও মুনাফা আগের বছরের চেয়ে কমেছে। তার বড় কারণ আর্থিক খরচ বা সুদবাবদ খরচ বেড়ে যাওয়া। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে কোম্পানিটি মুনাফা করে ২২২ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল ৩৬১ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে কোম্পানি সচিব জোবায়ের আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রেনাটার অন্যতম লক্ষ্য দেশের ভেতরে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ তৈরি করা। সেই ওষুধ দেশের বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও বাজারজাত করা। সেই কাজটিই আমরা ধারাবাহিকভাবে করে যাচ্ছি। এ কারণে কয়েক বছর ধরে প্রতিবছরই আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ করছি। রেনাটা যে বিশ্বমানের ওষুধ তৈরি করে, তারই স্বীকৃতি বৈশ্বিক এসব অনুমোদন।’

কোম্পানিসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে রেনাটা কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানিতে ওষুধ রপ্তানির জন্য দেশগুলোর ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পায়। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় ওষুধ রপ্তানি করে কোম্পানিটি। আর গত বছর অনুমোদন পেয়েছে ইইউ জিএমপির। পাশাপাশি গত বছর থেকে কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্সসহ একাধিক দেশে রপ্তানি শুরু করে।