যৌথ বিনিয়োগ
নতুন ভোক্তাশ্রেণি তৈরি করবে সানকুইক ড্রিংকস
ডেনমার্কের কো-রো কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে সানকুইক ব্র্যান্ডের ফ্রুট ড্রিংকসের নতুন কারখানা করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ এসিআই। তিন ধরনের স্বাদের ফ্রুট ড্রিংকস বাজারজাতও শুরু করেছে কোম্পানিটি। নতুন বিনিয়োগ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পণ্যের মান ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেছেন যৌথ বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানির শীর্ষ তিন নির্বাহী।
ইউরোপীয় মান বজায় রেখে স্থানীয় ফ্রুট ড্রিংকসের বাজারে নতুন ভোক্তাশ্রেণি তৈরি করতে চায় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ এসিআই। এ জন্য কোম্পানিটি ডেনমার্কের কোম্পানি কো-রোর সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে এসিআই কো-রো নামে নতুন কোম্পানি গঠন করেছে। ইতিমধ্যে ফ্রুট ড্রিংকসের কারখানাও স্থাপিত হয়েছে এবং উৎপাদিত পণ্যও বাজারে ছাড়া হয়েছে। এসিআই বলছে, পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতের পাশাপাশি নতুন ভোক্তাশ্রেণি তৈরি করাই তাদের অন্যতম ব্যবসায়িক লক্ষ্য। রাতারাতি বাজার ধরার বদলে তারা এ লক্ষ্য পূরণে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে চায়।
সম্প্রতি নতুন এ বিনিয়োগ, পণ্যের মান ও দাম, উৎপাদনপ্রক্রিয়া, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন এসিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আরিফ দৌলা, কো-রোর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট সরেন রৌন ও এসিআই কো-রো কোম্পানির এমডি নিলস রোনো। এ সময় তাঁরা বলেন, বর্তমানে কো-রো সানকুইক ব্র্যান্ডের ফ্রুট ড্রিংকস বিশ্বের ৮০টি দেশে বাজারজাত করছে। ডেনমার্কের এ কোম্পানি ১৯৬৬ সালে যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশে যৌথ বিনিয়োগে স্থাপিত কারখানায় বর্তমানে তিনটি ভিন্ন স্বাদের ফ্রুট ড্রিংকস তৈরি হচ্ছে। এগুলো হলো- আম, কমলা ও বেরির তৈরি ফ্রুট ড্রিংকস।
আরিফ দৌলা ও সরেন রৌন বলেন, এসিআই কো-রো কারখানায় উৎপাদিত সানকুইক ব্র্যান্ডের ফ্রুট ড্রিংকসে কোনো ধরনের কৃত্রিম পদার্থ, রং, প্রিজারভেটিভস ব্যবহার করা হয় না। ফলে এ ড্রিংকসের স্বাদ বাজারের অন্যান্য ড্রিংকসের চেয়ে আলাদা। এ ছাড়া দামও রাখা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে; যাতে ভোক্তারা কিছুটা প্রিমিয়াম দামে ভালো পণ্য পান।
সরেন রৌন বলেন, ‘পণ্যটি বাজারে ছাড়ার পর নিজেরা বাজার ঘুরে ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁদের মতামত নিয়েছি। ভোক্তারা এ ড্রিংকস নিয়ে খুবই ভালো প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তাই আশা করছি, সানকুইক ব্র্যান্ডের ফ্রুট ড্রিংকস দ্রুতই এ দেশের ভোক্তাদের কাছে অন্যতম পছন্দের পানীয় হয়ে উঠবে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজার খুবই সম্ভাবনাময়। মূলত এ দেশের বিশাল তরুণ সমাজ রয়েছে, পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ভালো। ফ্রুট ড্রিংকসের ব্যবসার জন্য এ দুটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ দেশের বাজারকে ঘিরে আমাদের নানা পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা এ দেশে এসেছি দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসা করতে। রাতারাতি বিপুল ভোক্তা তৈরি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। এ দেশের ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ’
এসিআইয়ের এমডি আরিফ দৌলা বলেন, ‘যেকোনো খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে ভোক্তার আস্থাটা বড় বিষয়। ভোক্তাকে যদি ভালো পণ্য দেওয়া যায়, তাঁরা সেটা গ্রহণ করবেনই। খাদ্যপণ্যের সঙ্গে সরাসরি ভোক্তার স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। এ কারণে আমরা ভোক্তার স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এত দিন ভোক্তার জন্য আস্থাশীল ও মানসম্মত কোনো ফ্রুট ড্রিংকসের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় এ ব্যবসায় যুক্ত হইনি। ইউরোপের ব্র্যান্ড কো-রো সানকুইক এগিয়ে আসায় আমরা প্রথমবারের মতো এ খাতের ব্যবসায় যুক্ত হয়েছি। বাজারে এখন অনেক কোম্পানির ফ্রুট ড্রিংকসের ব্যবসা রয়েছে। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাজার ধরা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য নতুন ভোক্তাশ্রেণি তৈরি করা। এ ক্ষেত্রে আমাদের টার্গেট বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ সমাজ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির গ্রাহকেরা। আমরা বিশ্বাস করি, তাদের সামনে গুণগত মানসম্পন্ন ভালো পণ্য দিতে পারলে তারা তা গ্রহণ করবে। এ জন্য কিছুটা বাড়তি দাম দিতেও তারা প্রস্তুত।’
এসিআই কো-রোর এমডি নিলস রোনোর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পূর্ণ অটোমেটেড কারখানা স্থাপনে এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ করা হয়েছে ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১১০ টাকা ধরে)। এ কোম্পানিতে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৭০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।
এসিআই কো-রো কোম্পানির এমডি নিলস রোনো বলেন, ‘বর্তমানে ২৫০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতলে তিনটি ভিন্ন স্বাদের ড্রিংকস বাজারে রয়েছে। এর মধ্যে প্রতি বোতল ম্যাঙ্গো ড্রিংকসের দাম রাখা হয়েছে ৩৫ টাকা। আর প্রতি বোতল কমলা ও বেরি ড্রিংকসের দাম ৪০ টাকা। আমাদের এ পণ্য সাধারণ মানের নয়, অত্যন্ত গুণগত মানসম্পন্ন বৈশ্বিক পণ্য। এ কারণে মানের সঙ্গে আপস না করে বাজারের সমজাতীয় অন্যান্য ড্রিংকসের চেয়ে দাম সামান্য বেশি রাখা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভালো পণ্যের জন্য একটু বেশি দাম দিতে এ দেশের অনেক ভোক্তা প্রস্তুত রয়েছেন।’