প্রায় সব কারখানায় বেতন–ভাতা ও ঈদ বোনাস দেওয়া হয়েছে, দাবি বিজিএমইএর

আজ বুধবার উত্তরায় বিজিএমইএ প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বক্তব্য দিচ্ছেনছবি: বিজিএমইএর সৌজন্যে

বৈশ্বিক মন্দা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি প্রভৃতি চাপের মধ্যে থেকেও পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছেন।

আজ বুধবার উত্তরায় বিজিএমইএ প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলেন বলা হয়, বিজিএমইএর তালিকাভুক্ত কারখানাগুলোর মধ্যে ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানায় ঈদ বোনাস দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট হাতে গোনা কয়েকটি কারখানার পাওনা পরিশোধ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন, যা আজকের (বুধবার) মধ্যে সম্পন্ন হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৬৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কারখানামালিক মানবিক বিবেচনায় মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম হিসেবে শ্রমিকদের দিয়েছেন। মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ কমাতে এলাকাভিত্তিক ধাপে ধাপে ছুটি প্রদান করা হচ্ছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কারখানায় ছুটি হয়েছে এবং আজ ও আগামীকালের মধ্যে বাকি কারখানাগুলো ছুটি হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ের বহুমুখী সংকটের মধ্যে থেকেও বিজিএমইএ সদস্যরা শ্রমিক ভাইবোনদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তাঁদের বেতন, ভাতা, উৎসব বোনাস পরিশোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। যার ফলে শ্রমিক ভাইবোনেরা আইনসম্মত পাওনা বুঝে পেয়েছেন এবং শিল্প এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, বর্তমান শিল্পবান্ধব ও শ্রমবান্ধব সরকার শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের জন্য সহজ শর্তে বিশেষ ঋণসুবিধা দিয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করেছে। এই পদক্ষেপগুলো পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের তীব্র তারল্যসংকট লাঘব করার পাশাপাশি শিল্পের চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মিজানুর রহমান, সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক নাফিস উদ দৌলা, পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান, পরিচালক জোয়ার্দার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন, রশিদ আহমেদ হোসাইনী, পরিচালক রুমানা রশীদ, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, পরিচালক সামিহা আজিম, বিজিএমইএ জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির এবং ওয়ান–স্টপ সেলের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া।