রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে বিশালাকার কন্ডোমিনিয়াম। এসব আবাসন প্রকল্পে আধুনিক জীবনযাত্রার সব সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি নান্দনিকতার ওপর দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব। এই নান্দনিকতার কেন্দ্রে রয়েছে আধুনিক টাইলস ও স্ল্যাব। একসময় উচ্চবিত্তের ড্রয়িংরুমের জন্য আমদানি করা ইতালিয়ান বা স্প্যানিশ টাইলস ছিল একমাত্র ভরসা। তবে সেই চিত্র এখন বদলে গেছে। ডিবিএল গ্রুপসহ দেশের বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন দেশেই তৈরি করছে বিশ্বমানের লার্জ ফরম্যাট পোরসেলিন স্ল্যাব ও পরিবেশবান্ধব সব টাইলস।
বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলতে এখন বড় আকারের ‘লার্জ ফরম্যাট পোরসেলিন স্ল্যাব’-এর কোনো বিকল্প নেই। এসব স্ল্যাব আকারে বড় হওয়ায় মেঝেতে জোড়া বা জয়েন্টের সংখ্যা কম থাকে, যা ঘরকে আরও প্রশস্ত ও নিরবচ্ছিন্ন দেখায়। ডিবিএল সিরামিকসসহ দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো এখন মার্বেল ফিনিশ থেকে শুরু করে সূক্ষ্ম টেক্সচারের স্ল্যাব উৎপাদন করছে, যা স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্যে আমদানি করা পণ্যের সমকক্ষ। ডাইনিং বা লিভিং রুমের মেঝে ছাড়াও কিচেন টপ বা বাথরুমের দেয়ালে এসব স্ল্যাবের ব্যবহার এখন ব্যাপক।
ওয়াকওয়েতে আবহাওয়া–সহনশীল আধুনিকতা
আধুনিক কন্ডোমিনিয়াম বা গেটেড কমিউনিটির অন্যতম আকর্ষণ হলো এর বিস্তৃত উন্মুক্ত অঞ্চল ও হাঁটার পথ। বাংলাদেশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ায় রোদ এবং বৃষ্টির প্রকোপ বেশি। এই প্রতিকূলতাকে জয় করতে দেশীয় কোম্পানিগুলো বাজারে এনেছে ‘ওয়েদার-রেজিস্ট্যান্ট আউটডোর টাইলস’। এসব টাইলস দীর্ঘ সময় সরাসরি সূর্যের আলো বা বৃষ্টির সংস্পর্শে থাকলেও এর রং বা স্থায়িত্ব নষ্ট হয় না। পাশাপাশি এগুলো অ্যান্টি-স্কিড বা পিচ্ছিলরোধী হওয়ায় বয়স্ক ও শিশুদের জন্য হাঁটাচলা নিরাপদ করে তোলে।
টেকসই ও গ্রিন-সার্টিফায়েড সমাধান
পরিবেশ সুরক্ষায় বিশ্বব্যাপী ‘গ্রিন বিল্ডিং’-এর ধারণা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বাংলাদেশের বড় আবাসন প্রকল্পগুলোও এখন ইকো-ফ্রেন্ডলি উপকরণের দিকে ঝুঁকছে। ডিবিএল গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় পানি পুনর্ব্যবহার এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তাদের ‘গ্রিন-সার্টিফায়েড’ টাইলসগুলো কেবল ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবও কমিয়ে আনে। টেকসই উন্নয়নের এই নতুন ধারায় নাম লিখিয়েছে দেশের সিরামিক খাত।
একনজরে আধুনিক টাইলসের সুবিধা
বিলাসবহুল লুক: মার্বেল বা গ্রানাইটের বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী ও টেকসই।
সহজ রক্ষণাবেক্ষণ: দাগ বা পানি শোষণ না করায় পরিষ্কার করা অত্যন্ত সহজ।
স্থায়িত্ব: ভারী আসবাব বা উচ্চ চাপে ভেঙে যাওয়ার ভয় নেই।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশীয় টাইলসশিল্পের এই অগ্রগতি কেবল আমদানিনির্ভরতা কমায়নি, বরং সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালে পৌঁছে দিয়েছে আধুনিক জীবনধারার স্বপ্ন। কন্ডোমিনিয়াম প্রকল্পে এখন ডিবিএলের মতো দেশীয় ব্র্যান্ডের টাইলস ব্যবহার করা মানেই হচ্ছে দেশপ্রেম আর আধুনিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন।