গত মাসের শুরুতেও চুনাপাথর আমদানিতে সিমেন্ট কোম্পানিগুলো প্রতি টনে ৮০৩ টাকা কর দিত। এ ক্ষেত্রে মোট শুল্ক–কর ছিল ২৭ শতাংশ। কিন্তু গত মাসের মাঝামাঝি থেকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চুনাপাথর আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক বসায়। এ কারণে এখন পাথরের মতো চুনাপাথরেও দেড় হাজার টাকার মতো শুল্ক–কর দিতে হচ্ছে। পাথর আমদানিতে মোট শুল্কহার ৬৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। উদ্যোক্তারা বলছেন, চুনাপাথর আমদানিতে পাথরের মতো শুল্ক আরোপ করায় বাড়তি যে খরচ হচ্ছে, তা উৎপাদন খরচের সঙ্গে যুক্ত হবে। তাতে শেষ বিচারে এ চাপ এসে পড়বে ভোক্তার কাঁধে। কারণ, উৎপাদন খরচ বাড়লে পণ্যমূল্যও বাড়বে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যে দেখা যায়, তিন বছর আগেও পাথর আমদানিকারকের তালিকায় রেডিমিক্স কারখানাগুলো ছিল শীর্ষে। যেমন এনডিই রেডিমিক্স কংক্রিট লিমিটেড ২০১৯–২০ অর্থবছরে শীর্ষস্থানীয় পাথর আমদানিকারক ছিল। এরপর প্রতিষ্ঠানটি পাথরের পরিবর্তে চুনাপাথর আমদানিতে শীর্ষ স্থানে উঠে আসে। ২০২০–২১ অর্থবছর থেকে গত অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৪৯ লাখ টন চুনাপাথর আমদানি করে। এনডিইর দেখানো পথ ধরে অন্য রেডিমিক্স কারখানাগুলোও চুনাপাথর আমদানি শুরু করে। এতে সিমেন্টশিল্পের কাঁচামালের প্রধান আমদানিকারক হয়ে ওঠে রেডিমিক্স কারখানাগুলো। এখন পাথর ও চুনাপাথর একই হারে শুল্কায়ন করায় কার্যত বিপাকে পড়েছে সিমেন্ট উৎপাদকেরা, যারা কাঁচামাল হিসেবে এত দিন ধরে চুনাপাথর আমদানি করে আসছিল।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গত সপ্তাহে প্রথম আলোকে বলেন, বন্দর দিয়ে যেসব চুনাপাথর আমদানি হচ্ছে, তা ছোট আকারের, চূর্ণ করা। এই পণ্যে সম্পূরক শুল্ক প্রযোজ্য। শুধু বড় আকারের (বোল্ডার) চুনাপাথর আমদানি হলে তাতে সম্পূরক শুল্ক দিতে হবে না। চুনাপাথর হিসেবেই গণ্য হবে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এই যুক্তি মানতে নারাজ সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতি। ১৭ নভেম্বর সমিতি থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়ে চুনাপাথরের ওপর থেকে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়। চিঠিতে সই করেন সমিতির প্রথম সহসভাপতি মো. শহীদুল্লাহ।

চিঠির ভাষ্য তুলে ধরে মো. শহীদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিমেন্টশিল্পে ১০ থেকে ২০ মিলিমিটার আকারের চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়। এটি স্বীকৃত পরিমাপ। এই আকারের চুনাপাথরই সিমেন্ট তৈরির জন্য আমদানি করছে সিমেন্ট কোম্পানিগুলো। এখন এটি সিমেন্টশিল্পের জন্য কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করছে না কাস্টমস। হঠাৎ এ সিদ্ধান্ত আমাদের বিস্মিত করেছে।’

সিমেন্ট খাতের উদ্যোক্তারা জানান, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া, আমদানি ঋণপত্র খুলতে ব্যাংকগুলোর অনীহা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। তাতে সিমেন্ট খাত যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। এখন কাঁচামালের ওপর নতুন করে সম্পূরক শুল্ক আরোপের ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বড় আকারের চুনাপাথর আমদানি হলে দেশে মূল্য সংযোজন হবে। নতুন ক্রাশিং কারখানা গড়ে উঠবে। সে জন্য চূর্ণ চুনাপাথরের নতুন শ্রেণিবিন্যাসের বিষয়ে কাস্টমসের ব্যাখ্যায় একমত পোষণ করেছে রাজস্ব বোর্ড।