ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার হয় ৩৬%

দেশে বর্তমানে ৪০ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্যের বাজার রয়েছে। আর নাগরিকেরা বছরে মাথাপিছু ৯ কেজির বেশি প্লাস্টিক ব্যবহার করেন। তবে ব্যবহৃত এই প্লাস্টিকের মাত্র ৩৬ শতাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়। মূলত বাসাবাড়ি ও ভাগাড় থেকে সঠিকভাবে সংগ্রহ না হওয়ায় ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বড় অংশই পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা যায় না। পাশাপাশি এই খাতের বিকাশে নেই প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তাও।

গতকাল বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিপিজিএমইএ) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. মাসুদুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান, বিপিজিএমইএর সভাপতি শামিম আহমেদসহ এই খাতের ব্যবসায়ীরা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ইজাজ হোসেন।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, দেশে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্য আলাদা করে সংগ্রহ করার দায়িত্ব মূলত সিটি ও পৌর করপোরেশনের। তবে তারা সে কাজটি ঠিকভাবে করে না। দেশে রিসাইকেলড প্লাস্টিক পণ্যের অনেক চাহিদা থাকলেও ঠিকভাবে সংগ্রহ না করায় সেই চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না।

জসিম উদ্দিন আরও বলেন, প্লাস্টিক খাতের উন্নয়নের দায়িত্ব কেবল বেসরকারি খাতের একার নয়। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি যাঁরা বাসাবাড়ি ও ভাগাড় থেকে প্লাস্টিক পণ্য সংগ্রহ করেন, তাঁদের জীবনমান উন্নয়নেও জোর দিতে হবে।

মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, পৌর এলাকায় উৎপাদিত বর্জ্যের ১০ শতাংশ থাকে প্লাস্টিক পণ্য। এসব প্লাস্টিকের ৩৬ শতাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা হয়, ৩৯ শতাংশ যায় ময়লার ভাগাড়গুলোতে আর ২৫ শতাংশ পরিবেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। ফলে দেশে পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক শিল্প খাতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর জন্য ব্যবহৃত প্লাস্টিক সংগ্রহের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

প্লাস্টিক খাতে দেশে বর্তমানে ৪০ হাজার কোটি টাকার বাজার আছে বলে সেমিনারে জানান বিপিজিএমইএর সভাপতি শামিম আহমেদ। তিনি বলেন, প্রতিবছর দেশের প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি ২০ শতাংশ বাড়ছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৬ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলারের প্লাস্টিক রপ্তানি হয়েছে। আর গত এক দশকে প্লাস্টিক রপ্তানি বেড়েছে ৪৪ শতাংশ বা প্রায় পৌনে ১০ কোটি ডলার। এভাবে চললে ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ৪০তম শীর্ষ প্লাস্টিক রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘প্লাস্টিক বর্জ্যের একটা সম্ভাবনাময় বাজার আমাদের সামনে রয়েছে। তবে এই খাত তেমন স্বীকৃত নয়। এই খাতের বিকাশের জন্য সরকারের নীতি ও অর্থসহায়তার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষকেও সচেতন করতে হবে।’