স্বল্প বাজেটে প্রশান্তি এয়ারকুলারে

ছবি: এআই/প্রথম আলো

বাইরে কাঠফাটা রোদ, আর ঘরে ভ্যাপসা গরম। সিলিং ফ্যান কেবল তপ্ত বাতাস ঘুরিয়ে দিচ্ছে, আর এসির আকাশচুম্বী দাম ও বিদ্যুৎ বিল মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে তপ্ত গ্রীষ্মের ‘তুরুপের তাস’ হয়ে উঠেছে আধুনিক এয়ারকুলার। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার দেশের অনেক জেলায় তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। গরমে অল্প খরচে এসির কাছাকাছি শীতলতা পেতে ঘরে ঘরে জায়গা করে নিচ্ছে এই যন্ত্র।

বাজার এখন দেশি ব্র্যান্ডের দখলে। একসময় এয়ারকুলার মানেই ছিল আমদানিনির্ভর বিদেশি ব্র্যান্ডের দাপট। তবে গত কয়েক বছরে দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে গ্রী, ওয়ালটন, ভিশন, মিনিস্টার ও মার্সেলের মতো দেশি ব্র্যান্ডগুলো। বর্তমানে বাজারের ৬৫-৭০ শতাংশ শেয়ারই দেশীয় কোম্পানিগুলোর দখলে। উৎপাদন পর্যায়ে খরচ কমায় বর্তমানে মাত্র ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে এসব এয়ারকুলার। ফলে এটি এখন কেবল বিলাসিতা নয়, বরং সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে থাকা প্রয়োজনীয় যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।

পকেটের সুরক্ষা 

মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এসি কেনা যতটা কঠিন, তার চেয়ে কঠিন মাসিক বিদ্যুৎ বিল মেটানো। ১ টনের এসি যেখানে ১০০০ ওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে, সেখানে এয়ারকুলার চলে মাত্র ১০০ থেকে ২০০ ওয়াটে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসি থেকে মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসতে পারে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। আর এয়ারকুলারে মাসে বাড়তি খরচ মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।

এ ছাড়া লোডশেডিংয়ের সময় যেখানে এসি চালানো প্রায় অসম্ভব, সেখানে কম ওয়াটের হওয়ায় এয়ারকুলার অনায়াসেই সাধারণ আইপিএস বা সোলার প্যানেলে চালানো যায়। গ্রামাঞ্চল বা শহরতলিতে এটি একটি বড় আশীর্বাদ।

হানিকম্ব কুলিং প্যাড: আগের কাঠের আঁশের বদলে এখন মৌচাকের মতো ‘হানিকম্ব’ প্যাড ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘক্ষণ পানি ধরে রেখে বাতাসকে দ্রুত ঠান্ডা করে।

আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ: বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘরের গুমোট ভাব দূর করতে আধুনিক কুলারে যুক্ত হয়েছে হিউমিডিটি কন্ট্রোল প্রযুক্তি।

আইওটি ও ইনভার্টার: এখনকার প্রিমিয়াম কুলারগুলো ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে স্মার্টফোন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ইনভার্টার মোটর ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ খরচ কমে আসে নামমাত্র পর্যায়ে।

আইস চেম্বার: দ্রুত শীতলতার জন্য এতে বরফ রাখার বিশেষ জায়গা রয়েছে, যা মুহূর্তেই ঘরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনে।

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সমাধান এসিতে ব্যবহৃত ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস ওজোন স্তরের ক্ষতি করলেও, এয়ারকুলার কাজ করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায়। ফলে এটি পরিবেশের জন্য শতভাগ নিরাপদ। গ্লোবাল মার্কেট রিসার্চ ফার্মগুলোর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে এয়ারকুলার একটি টেকসই কুলিং সমাধান হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হচ্ছে।