সুতা আমদানিতে শুল্কারোপ চান না তৈরি পোশাকশিল্প মালিকেরা

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজিএমইএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান। আজ সোমবার সোনারগাঁও হোটেলে।ছবি: প্রথম আলো

ভারত থেকে সুতা আমদানি কমাতে বন্ড-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তার মানে, শুল্কমুক্ত সুবিধা সুতা আমদানির সুযোগ থাকবে না। এই সুপারিশ প্রত্যাহার চেয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পমালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা। তাঁরা বলেন, সুতা আমদানিতে বন্ড-সুবিধা বাতিল হলে তৈরি পোশাকশিল্প চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। বেশি দামে সুতা কিনতে হলে বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেবেন।

সংগঠন দুটির শীর্ষ নেতারা বলেন, দেশি স্পিনিং মিলকে সুরক্ষা দিতে হলে আমদানিতে শুল্ক না বসিয়ে তাদের সরাসরি নগদ সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানির মূল্য যৌক্তিককরণ, রপ্তানিমুখী সুতা উৎপাদনকারীদের করপোরেট করে রেয়াত ও স্বল্প সুদে ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যায়।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আজ সোমবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এমন বক্তব্য তুলে ধরেন বিজিএমইএর ও বিকেএমইএর নেতারা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজেএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক এম এ রহিম, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, ফয়সাল সামাদ প্রমুখ।

ভারতীয় সুতার সঙ্গে দেশি সুতার কল প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না, এমন অভিযোগে সুতা আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে চিঠি দেয় বস্ত্রকলমালিকদের সংগঠন বিটিএমএ। তার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতার বন্ড–সুবিধা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনবিআরকে সুপারিশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভারতের পাশাপাশি তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সুতা আমদানি হয়। বন্ড-সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে ভারতের পাশাপাশি অন্য দেশ থেকেও আমদানি করা সম্ভব হবে না। কারণ, ৩২ থেকে ৩৯ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। সেই শুল্ক ফেরত পাওয়া যাবে কি না, সেটি নিশ্চিত নয়।

সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে সেলিম রহমান বলেন, ‘ট্যারিফ কমিশনের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলার মধ্যেই আমাদের মতামতকে পাশ কাটিয়ে এক তরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা নীতিগতভাবেও চরম প্রশ্নবিদ্ধ।’

সেলিম রহমান আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক বাজারে “৩০ কার্ডেড” ১ কেজি সুতার দাম ২ ডলার ৫০ সেন্ট থেকে ২ ডলার ৬০ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে। সেখানে দেশে দেশি মিলগুলো একই সুতা সরবরাহ করতে চাচ্ছে ৩ ডলারে। তার মানে, কেজিতে ব্যবধান ৪০ সেন্ট বা ৪৬ টাকা। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যেখানে এক সেন্ট বা আধা সেন্টের হেরফেরে আমরা ক্রয়াদেশ হাতছাড়া করি, সেখানে কাঁচামালের পেছনে ৪০ সেন্ট খরচ করা মোটেও বাস্তবসম্মত নয়।’

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ভারত থেকে সুতা আমদানি বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ভারত যদি সুতা ডাম্পিং করে তাহলে অ্যান্টি ডাম্পিং বসান। সেটি না করে মনোপলি করার সুযোগ দিচ্ছেন।

তৈরি পোশাকশিল্পমালিকেরা বিভিন্ন সংকটে পড়ে আইসিইউতে আছে দাবি করে ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘গড় দেড় বছরে ২০০ থেকে ২৫০ তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। আমরাও আইসিইউতে আছি। বস্ত্রকলমালিকদের সহায়তা দিতে গিয়ে মূল শিল্পকে মেরে ফেলা যাবে না।’

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘নগদ সহায়তা ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে দেড় শতাংশ করা হয়েছে। সে কারণে ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে। ভারতীয় সুতার দাম সব সময়ই দেশি মিলের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ সেন্ট বেশি ছিল। আমরা যে নগদ সহায়তা পেতাম, সেটি দিয়ে কাভার দিতাম। এখন প্রণোদনা বন্ধ হওয়ার পর সমস্যা তৈরি হয়েছে।’

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ যৌথভাবে গত রোববার অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং এনবিআর চেয়ারম্যানকে পৃথক চিঠি দিয়ে ১০ থেকে ৩০ সুতা আমদানিতে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ না করার জন্য অনুরোধ করেছে।