ভারতের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল চায় না বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ
ভারত থেকে সুতা আমদানি কমাতে বন্ড–সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চেয়েছেন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা। তাঁরা মনে করছেন, এ সুবিধা বাতিল হলে তৈরি পোশাকশিল্প সংকটে পড়বে।
আজ সোমাবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা। সংবাদ সম্মেলন এখনো চলছে।
লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, ‘যদিও পোশাক রপ্তানিকারীরাই বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদিত সুতার একমাত্র ক্রেতা, তারপরও এ রকম স্পর্শকাতর ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পোশাকশিল্পের স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে। ট্যারিফ কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন আমাদের মতামত পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্যারিফ কমিশন।’
সেলিম রহমান আরও বলেন, এই একতরফা পদক্ষেপ সরাসরি বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার সেফগার্ড চুক্তির ৩ ও ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী, আমদানিতে এ–জাতীয় রক্ষণশীল শুল্ক আরোপের আগে অবশ্যই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পের গুরুতর ক্ষতি হচ্ছি, সেটি অকাট্যভাবে প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু এখানে তা করা হয়নি। এভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা কেবল অনভিপ্রেতই নয়, বরং নীতিগতভাবে চরম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
মূলত দেশীয় সুতাকলগুলোকে সুরক্ষা দিতে সরকার এই বন্ড–সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে সেলিম রহমান বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে স্পিনিং মিলগুলোর জন্য শুল্কের কৃত্রিম “সুরক্ষা” নয়, বরং প্রয়োজন নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতার আধুনিকায়ন। বস্ত্র খাতকে সুরক্ষা দিতে সরকার তাদের সরাসরি প্রণোদনা দিতে পারে, কিংবা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে পারে।’
সেলিম রহমানের শঙ্কা, সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ইতিমধ্যে ২০২৫- ২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে। শুধু ডিসেম্বর মাসে কমেছে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর ওপর উচ্চ দামে সুতা কিনতে হলে ক্রেতারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেবেন। এতে প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকদেরও ক্ষতি হবে।
আজকের এই যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের আরও দাবি:
১. বস্ত্র খাতকে সুরক্ষা দিতে হলে আমদানিতে শুল্ক না বসিয়ে তাদের সরাসরি নগদ সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে।
২. গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানির মূল্য যৌক্তিকীকরণ, রপ্তানিমুখী সুতা উৎপাদনকারীদের করপোরেট কর রেয়াত এবং স্বল্প সুদে ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন বিজেএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি শিহাব উদদৌজা চৌধুরী, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান প্রমুখ।
বাস্তবতা হলো, রপ্তানিমুখী পোশাক খাতকে উৎসাহিত করতে ও প্রতিযোগিতাসক্ষম রাখতে ১৯৮০-এর দশক থেকে সুতা আমদানিতে বন্ডের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। দেশের বস্ত্রকলের মালিকেরা চান না, এ সুবিধা আর বহাল থাকুক। তাঁরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশ কম দামে বাংলাদেশে সুতা রপ্তানি করছে। ফলে অস্তিত্বের সংকটের মুখে তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের দাবির সঙ্গে একমত সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। এই পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারত থেকে কটন সুতা আমদানিতে বন্ড-সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।