প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত ওষুধ খাতের এপিআই ১৫ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। তবে আরও বেশি হারে মূল্য সংযোজনের বিষয়টি আমাদের জন্য জরুরি।’ তিনি বলেন, আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে ওষুধ খাতে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার রপ্তানি সম্ভব। তৈরি পোশাক খাতের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ওষুধের চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশ উৎপাদন করতে সক্ষম স্থানীয় কোম্পানিগুলো, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার। তিনি বলেন, গত অর্থবছর ওষুধ খাত প্রায় ১০৫ কোটি ডলারের কাঁচামাল আমদানি করেছে। এমন অবস্থায় অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আরও মনোযোগী হতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ৮-১৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতে পারে। এতে মোট রপ্তানি ১৪ দশমিক ২৮ শতাংশ বা ৫৭৩ কোটি ডলার হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশ হবে। ওই বছর পর্যন্তই বাংলাদেশি পণ্যের মেধাস্বত্ব সুবিধা অব্যাহত থাকবে। তারপর সুবিধাটি না থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে ওষুধ খাতকে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। কমবে রপ্তানিও। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের স্বার্থে মেধাস্বত্ব আইন গ্রহণের জন্য বেসরকারি খাতকে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এ জন্য সরকারি প্রণোদনাও প্রয়োজন।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক এ বি এম ফারুক এবং ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম মোসাদ্দেক হোসেন।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন