ভরিতে এক হাজার টাকা কর দিয়ে সোনা সাদা করতে চান ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আয়োজিত ‘মিট দ্য বিজনেস’ শীর্ষক অংশীজন সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান। গতকাল ঢাকার আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনেছবি: এনবিআর।

সোনা ব্যবসায়ীদের কাছে ঘোষণার বাইরে থাকা সোনা বৈধ বা সাদা করার সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ব্যবসায়ীরা। আগের সরকার ভরিপ্রতি এক হাজার টাকা কর দিয়ে সোনা সাদা করার এমন সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু তখন অনেকে সে সুবিধা নিতে পারেননি, এমন দাবি জানিয়ে নতুন করে আবার সুবিধাটি চালু করার প্রস্তাব দেন বাজুসের নেতারা।

একই সঙ্গে আমদানি নীতিমালা সহজ করা এবং লাইসেন্স উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের সোনা ব্যবসায়ীরা। বৈধভাবে সোনা আমদানির মাধ্যমে চোরাচালানের অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তাঁরা।

আজ বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত ‘মিট দ্য বিজনেস’ শীর্ষক এক অংশীজন সভায় অংশ নিয়ে সোনা ব্যবসায়ীরা এসব দাবি জানান। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খান দোলন বলেন, ‘আমাদের দেশে সোনা উৎপাদন হয় না, কিন্তু লাখ লাখ ভরি মজুত আছে। এর আগে সরকার একবার ভরিপ্রতি হাজার টাকা কর দিয়ে সোনা সাদা করার সুযোগ দিয়েছিল। আবার সে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।’

সোনার দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে এনামুল হক খান বলেন, দুবাই থেকে আমদানি করা সোনায় ভ্যাট দেওয়ার পর ভরিতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার পার্থক্য তৈরি হয়। কিন্তু এত বেশি দাম দিয়ে দেশে কেউ সোনা কিনতে চান না। তাই অনেক ক্রেতা বিদেশ থেকেই সোনা কিনে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের আমদানির সময় ৫ শতাংশ ও বিক্রির সময় ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। অন্যদিকে ভারতে ভ্যাটের হার মাত্র ৩ শতাংশ। তাই ভারতীয় ভিসা চালু হলে আমরা ক্রেতাশূন্য হয়ে যাব।’

ফেন্সি জুয়েলার্সের মালিক সমিত ঘোষ বলেন, ‘পারিবারিকভাবে আমাদের ৫০-৬০ বছরের পুরোনো ব্যবসা। কিন্তু আমরা আবেদন করেও লাইসেন্স পাইনি। ব্যবসায়ীরা না পেলেও ক্রিকেটার লাইসেন্স পেয়েছেন। আমরা বৈধভাবে সোনা আমদানি করতে না পারলেও যে উৎস থেকে পাই, তারা ঠিকই ব্যবসা করছে। আমরা সরকারকে টাকা দিয়ে বৈধ ব্যবসায়ী হতে চাই।’

সোনার ক্ষেত্রে সোর্সিং বা সংগ্রহ করাটা সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে জানান বাজুসের পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘অনেক দেশ সরকারি পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে সোনা সংগ্রহ করে থাকে। আমাদেরও এমন চুক্তি করার সুযোগ রয়েছে।’

দেশে সোনা সংগ্রহের কোনো মানমাত্রা নেই জানিয়ে স্বর্ণশিল্পী উত্তম বণিক বলেন, খোলাবাজার থেকে যদি সোনা সংগ্রহ করতে পারতাম, তাহলে সরকারও টাকা পেত। তাই কোনো একটি ব্যাংককে দায়িত্ব দেওয়া যায়। সবাই তাদের কাছ থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করতে পারবে। ভারতেও এমনটা হয়।

বাজুসের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গুলজার আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নিজে সোনা নিয়ে আসতে পারে। আমরা সেখান থেকে চাহিদা দিয়ে নিতে পারতাম। এখন তাঁতীবাজার থেকে সোনা সংগ্রহ করলে আমরা কোনো কাগজপত্র পাই না।’

ব্যবসায়ীদের এনবিআরে এ-সংক্রান্ত সব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘সোনা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বড় নীতিগত বিষয়। এই সিদ্ধান্ত সংসদের মাধ্যমে হতে পারে। আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সমস্যাগুলোর সমাধানে আমরা চেষ্টা করব।’

এনবিআরের চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আমদানি নীতিমালা নিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সভায় বাজুসের সদস্যরাসহ বিভিন্ন এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।