নির্মাণাধীন ভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ

আবাসন প্রকল্পপ্রতীকী ছবি

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাভুক্ত এলাকায় অনুমোদনহীন ও অনুমোদিত নকশা না মানার অভিযোগে নির্মাণাধীন ভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা থেকে ছয় মাস বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে বিষয়টি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, এ–সংক্রান্ত রুল জারি করেছেন আদালত।

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) করা রিট মামলার শুনানির পর এ আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজি এবং বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের বেঞ্চ। গত ১৭ ডিসেম্বর এ–সংক্রান্ত আদেশ দেন আদালত। আদেশটির প্রত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর রিহ্যাব চলতি সপ্তাহে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানায়।

গত বছরের ১৭ এপ্রিল সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়, রাজউকের আওতাধীন এলাকায় অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ করতে গেলে ভবনের পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত তুলে ধরে গত ৫ মে মন্ত্রণালয় এ–সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। পরে এ নির্দেশনার কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৭ ডিসেম্বর রিহ্যাবের পক্ষে হাইকোর্টে রিট মামলা করেন সংগঠনটির সভাপতি।

রিট শুনানির পর আদালত আদেশ দেন, ‘১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইনের ৩খ ধারার অধীনে বাধ্যতামূলক যথাযথ প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতিগত সুরক্ষাব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন না করে নকশাবিচ্যুতির অভিযোগে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ওপর ছয় মাসের অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।’

গত বছরের ৫ মে দেওয়া নির্দেশনাটি কেন ১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইনের ৩খ ধারা, ২০১৮ সালের বিদ্যুৎ আইনের ১৮ ধারা, ২০১০ সালের গ্যাস আইনের ৭(৩) ধারা এবং ১৯৯৬ সালের ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইনের ২৬ ধারার লঙ্ঘন নয়, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। একই সঙ্গে নির্দেশনাটি কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা–ও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান, ঢাকার জেলা প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) এমডি, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের এমডি এবং ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) এমডিকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও শাহেদ আহমেদ সাদি। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহদী হাসান, মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান প্রমুখ।