দেশের ওষুধশিল্পের বিকাশ, রপ্তানি বৃদ্ধি, মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন ও সুলভ মূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেবে সরকার। এ খাতের সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির নেতারা এ কথা জানান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সমিতির সভাপতি ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল মুক্তাদির।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওষুধশিল্পের মালিকদের বৈঠকে আরও উপস্থিত স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রমুখ। আর শিল্পমালিকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি তপন চৌধুরী, সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান এম মোসাদ্দেক হোসেন, সমিতির মহাসচিব ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান এবং এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি ও ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান।
বৈঠক শেষে আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওষুধ খাত নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। এ খাত অনেক সম্ভাবনাময় এবং খাতটির জন্য সরকার নীতিসহায়তা দেবে এবং যা যা করার দরকার, সবই করবে। বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশে বাংলাদেশি ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রপ্তানির পরিমাণ কম হলেও ভবিষ্যতে তা বাড়বে। ওষুধের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে ভ্যাকসিন, অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) ইত্যাদি রপ্তানি। অচিরেই বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে এবং বাংলাদেশের উচ্চমানের ওষুধ যেন মানুষ পেতে পারে, সেই বিষয়ে একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ আমরা আশা করছি।’
ওষুধ খাতের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, অনেক ওষুধশিল্প প্রতিষ্ঠান রুগ্ণ হয়ে গেছে। এগুলোকে কীভাবে ভালো অবস্থানে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টাও ওষুধ রপ্তানিতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকারের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘যেসব সমস্যার কথা আমরা তুলে ধরেছি, অধিকাংশ বিষয়েই সরকার অবগত। বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা দেবে সরকার।’
কী ধরনের নীতিসহায়তা সরকার দিতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল মুক্তাদির বলেন, এগুলোর বেশির ভাগই কারিগরি ও প্রযুক্তি সহায়তাবিষয়ক। যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ম্যাচিউরিটি লেভেল-৩ (এমএল-৩) অর্জন, বায়োলজিকস খাতের সর্বশেষ নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওষুধ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। সরকার ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিগুলো আমলে নিয়ে সে অনুযায়ী দেশের ওষুধশিল্পকে নির্দেশনা দেবে।
প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন—জানতে চাইলে আবদুল মুক্তাদির বলেন, তিনি সবকিছু মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
কী পরিমাণ ওষুধ কারখানা বন্ধ রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সমিতির সভাপতি বলেন, ‘এগুলো একটা বিশদ জিনিস। এখন কথা বলতে চাই না। তবে যেসব কারখানা খারাপ অবস্থায় আছে, তারা যাতে ভালো অবস্থায় আসতে পারে, এ বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নেবে।’
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ট্রিপস-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর আমরা কীভাবে মোকাবিলা করব, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে।’ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতায় মেধাস্বত্ব বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণকারী চুক্তি হচ্ছে ট্রিপস।
ওষুধের নিবন্ধন এত দিন বন্ধ ছিল জানিয়ে আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘তাড়াতাড়ি ওষুধের নিবন্ধন দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে অতি উচ্চ মূল্যে মানুষকে আর ওষুধ না কিনতে হয়। ওষুধগুলো দেশেই যাতে তৈরি হয় এবং মানুষ সুলভ মূল্যে তা কিনতে পারেন। আমাদের যত সমস্যা, সবকিছু প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন এবং দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে আমরা খুবই খুশি।’