বেসিন ও কমোড ব্যবসায় মেঘনা গ্রুপ, বিনিয়োগ করেছে ৩০০ কোটি টাকা
স্যানিটারি পণ্যের ব্যবসায় নেমেছে মেঘনা গ্রুপ। আগামীকাল শনিবার তাদের নতুন প্রতিষ্ঠান ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যারের যাত্রা শুরু হচ্ছে। আপাতত প্রতিষ্ঠানটি বেসিন ও কমোড বানাবে। পরে অন্য স্যানিটারি পণ্যও বানাবে বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের আষাঢ়িয়ারচরে এই স্যানিটারি কারখানা অবস্থিত। মেঘনা গ্রুপের বিদ্যমান সিরামিক কারখানার প্রাঙ্গণেই এ কারখানা।
মেঘানা গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, স্যানিটারি পণ্য উৎপাদনের এই কারখানা নির্মাণে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে এই কারখানায় বেসিন ও কমোড উৎপাদনের সক্ষমতা প্রতিদিন দুই হাজার পিস। সে হিসাবে মাসে প্রায় ৬০ হাজার পিস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে ছয় শর বেশি মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে। এর বাইরে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যারের বাজারে আসা প্রসঙ্গে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্মাণসামগ্রী খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সুনামের পাশাপাশি সিরামিক টাইলস আমরা গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে ইতিমধ্যে আস্থা অর্জন করেছি। সেই অভিজ্ঞতা ও আস্থার ভিত্তিতেই ফ্রেশ সিরামিকসের পর এবার আমরা বাজারে ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যার নিয়ে এসেছি।’
মোস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘গুণগত মান, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং গ্রাহকদের আস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যারকে আমরা এ খাতের একটি নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’
কেন প্রথমেই বেসিন ও কমোড বানাবে ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যার, এ বিষয়ে জানা গেছে, স্যানিটারিওয়্যার বাজারের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বেসিন ও কমোড–কেন্দ্রিক। তাই প্রথমেই এই দুটি পণ্য বানাবে প্রতিষ্ঠানটি। ছয়টি পেডেস্টাল বেসিন, দুটি সিঙ্গেল-পিস ওয়াটার ক্লোজেট, তিনটি টু-পিস ওয়াটার ক্লোজেট এবং তিনটি স্কোয়াটিং প্যান নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভবিষ্যতে বাথটাব, ইউরিনাল, স্কোয়াট প্যান, ফ্লাশ ট্যাংকসহ অন্যান্য স্যানিটারিওয়্যার বানানোর পরিকল্পনা আছে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে স্যানিটারি পণ্য রপ্তানি শুরু করবে, এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কাচামালের উৎস কী
প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১০০ শতাংশ আমদানি করা কাঁচামাল ব্যবহার করা হবে। পণ্যের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত কাঁচামাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। বর্তমানে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মিসর, ভারত, জার্মানি ও চীন থেকে বিভিন্ন কাঁচামাল আসছে।
বাজার কত বড়
জানা গেছে, ব্র্যান্ড ও উন্নত মানের স্যানিটারিওয়্যারের বাজার প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার। নন-ব্র্যান্ডেড ও অপেক্ষাকৃত কম মানসম্পন্ন পণ্যসহ পুরো বাজারের আকার আনুমানিক দুই হাজার কোটি টাকা।
এই বাজারের প্রতিবছর প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। অর্থাৎ, স্যানিটারিওয়্যারের প্রতি গ্রাহকের চাহিদা বাড়ছে এবং উন্নত মানের পণ্যের জন্যও বাজার তৈরি হচ্ছে।
মেঘনা গ্রুপের পরিচালক তানজিমা মোস্তফা বলেন, ‘নির্মাণসামগ্রীর বাজারে ক্রমাগত পরিবর্তন আসছে। গ্রাহকেরাও এখন পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি মান ও নির্ভরযোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। গ্রাহকদের এই চাহিদা পূরণে আমরা স্যানিটারিওয়্যার খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি।’
তানজিমা মোস্তফা আরও বলেন, ‘মানসম্মত সিরামিক পণ্য, আধুনিক নকশা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়ে ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যার গ্রাহকদের কাছে সরবরাহের মাধ্যমে এই খাতে অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাই। আধুনিক বাড়ি ও ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় স্যানিটারিওয়্যার পণ্য ও সমাধান গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’