এফবিসিসিআইয়ের ২৩ পরিচালক নির্বাচিত করতে ভোট দেবেন ১,৯৯০ ভোটার
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আজ সোমবার সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলবে।
২০১৭ সালের পর আবার পরিচালনা পর্ষদের একাংশের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ সদস্যরা। যদিও ২০২৩-২৫ মেয়াদের পর্ষদ গঠনে এই ভোট একধরনের আনুষ্ঠানিকতা। তারপরও ২৩ পরিচালক পদে জিততে ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ ও সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ নামের দুটি প্যানেল ব্যাপক প্রচার–প্রচারণা চালিয়েছে। নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ আছে।
সংগঠনটির ২৩ পরিচালক পদের নির্বাচনের জন্য আজ সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে। এতে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ২৩ পরিচালক নির্বাচিত করতে ভোট দেবেন পণ্যভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠনের ১ হাজার ৯৯০ ভোটার। এই পদে ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ ও সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ ২৩ জন করে ৪৬ জন প্রার্থী দিয়েছে। তার বাইরে আছেন তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
অন্যদিকে চেম্বার গ্রুপের ২৩ পদের জন্য শুধু ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী থাকায় ভোটের প্রয়োজন পড়ছে না। আর চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ৩৪ জন মনোনীত পরিচালক পদের বিপরীতে বৈধ প্রার্থী আছেন ৩২ জন। দুটি পদ ফাঁকা রয়েছে। সব মিলিয়ে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক পদের সংখ্যা ৮০। তার মধ্যে ৫৫টি ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের দখলে। সে জন্য আজকের ভোটকে একধরনের আনুষ্ঠানিকতা বলা হচ্ছে।
তারপরও এফবিসিসিআইয়ের অনেক সদস্যই বলছেন, ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্বের একাংশ নির্বাচিত হওয়াটাও ইতিবাচক। এর ফলে ভোট চাইতে উভয় প্যানেলের প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন, বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। নির্বাচনের এই সংস্কৃতি প্রার্থীদের মধ্যে সংগঠনের প্রতি একধরনের দায়বদ্ধতা তৈরি করবে। জবাবদিহির জায়গাটিও পোক্ত হবে।
এফবিসিসিআইয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহণ চলবে। তারপর ভোট গণনা শেষে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হবে। ভোট ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ও মনোনীত পরিচালকেরা আগামী বুধবার সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও ছয়জন সহসভাপতি নির্বাচিত করবেন।
এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন বোর্ডের এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভোট দেওয়ার জন্য একজন ভোটারকে একটি ব্যালট পেপার সরবরাহ করবেন পোলিং কর্মকর্তা। ব্যালট পেপার সরবরাহের সময় ভোটারের ভোটার আইডি কার্ড রেখে দেওয়া হবে। একজন ভোটার ২৩ জনকে ভোট দিতে পারবেন। ভোটের সংখ্যা কম বা বেশি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হবে।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এ মতিন চৌধুরী বলেন, সবাই যেন সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রদান করতে পারেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
২৩ পরিচালক পদে চট্টগ্রাম চেম্বারের বর্তমান সভাপতি মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বাধীন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থীরা হলেন কালি প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির এম এ মোমেন; পাঠ্যপুস্তক মুদ্রক ও বিপণন সমিতির মো. আমিন হেলালী; প্লাস্টিক প্যাকেজিং, রোল উৎপাদক মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির আবু মোতালেব; উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউরস নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নাদিয়া বিনতে আমিন; গার্মেন্টস এক্সেসরিজ সাপ্লায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের এনায়েত উল্যাহ সিদ্দিকী; ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের শমী কায়সার; অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির মো. জামাল উদ্দিন; বি কিপারস অ্যাসোসিয়েশনের রাকিব মো. ফখরুল; অ্যাসোসিয়েশন অব গালফ মেডিকেল সেন্টারের এজাজ মোহাম্মদ; অভ্যন্তরীণ পোশাক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির মো. আলাউদ্দিন মালিক; রেফ্রিজারেটর উৎপাদক সমিতির গোলাম মুর্শেদ; চালকল মালিক সমিতির আমজাদ হোসেন; সিকিউরিটির সার্ভিস কোম্পানি মালিক সমিতির আসলাম সেরনিয়াবাত; ইলেকট্রনিকস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশনের মো. নিয়াজ আলী চিশতি; মিয়াজি অ্যাসোসিয়েশনের রাশেদুল হোসেন চৌধুরী; ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাসোসিয়েশনের মোহাম্মদ খোরশেদ আলম; ফ্যাশন ডিজাইনার সমিতির মানতাশা আহমেদ; কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির মো. হাফেজ হারুনুর রশীদ; মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদক সমিতির কাউসার আহমেদ; ইলেকট্রিক্যাল সমিতির খন্দকার রুহুল আমিন; ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের মো. শাহীন আহমেদ; সাব-কন্ট্রাকন্টিং শিল্প মালিক সমিতির কাজী এরতেজা হাসান এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েব প্রিন্টার্সের রব্বানী জব্বার।
এ ছাড়া সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থীরা হলেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সমিতির মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ, ইলেকট্রনিকস উৎপাদক সমিতির মো. মুনতাকিম আশরাফ, সেকেন্ডারি কোয়ালিটি টিন প্লেট আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সমিতির নিজাম উদ্দিন, ইলেকট্রিক্যাল মোটর পাম্প আমদানিকারক সমিতির মো. শহীদুল হক মোল্লা, ফল আমদানিকারক সমিতির সিরাজুল ইসলাম, পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির মো. এনায়েত উল্লাহ, সোলার ও রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের মোস্তফা আল মাহমুদ, ইলেকট্রিক্যাল মার্চেন্ডাইজার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের মোহাম্মদ আফতাব জাবেদ, গ্রে অ্যান্ড ফিনিশড ফেব্রিকস মিলস এক্সপোর্টাসের বি এম সোয়েব, ডাইড ইয়ার্ন রপ্তানিকারক সমিতির তপন কুমার মজুমদার, মুদ্রণ শিল্প সমিতির মো. জহিরুল ইসলাম, রিভার ট্রান্সপোর্ট এজেন্ট মালিক সমিতির মো. রকিবুল আলম, মাছ রপ্তানি ও আমদানিকারক সমিতির সালমা হোসেন, আয়রন ও স্টিল আমদানিকারক সমিতির মো. আমির হোসেন নুরানী, পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির মো. আবুল হাসেম, মিষ্টি উৎপাদক সমিতির মো. মারুফ আহমেদ, শিপারস কাউন্সিল অব বাংলাদেশের সৈয়দ মো. বকতিয়ার, চাল রপ্তানিকারক সমিতির মোহা. ইসহাকুল হোসেন, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন উৎপাদক সমিতির মো. মাহবুব হাফিজ, চাল ব্যবসায়ী সমিতির জাকির হোসেন, মাছ রপ্তানি ও আমদানিকারক সমিতির শেখ আহমেদ উল্লাহ, মোটরসাইকেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির মো. লোকমান হোসেন এবং কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির মো. আবু ছাদেক। সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের আহ্বায়ক হলেন মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠনের মৌসুমি ইসলাম, ডিম উৎপাদক সমিতির তাহের আহমেদ সিদ্দিকী ও ওয়াটার ওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশনের মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।