ঘটনাটা খুলেই বলা যাক। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে নাসির উদ্দিনসহ তিন বন্ধু মিলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানা গড়ে তোলেন। অন্য দুজন হলেন কাজী জাফরউল্লাহ ও নূর মোহাম্মদ। পরে তাঁরা চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে ফরিদপুর স্টিল মিলস নামে একটি রড কারখানা স্থাপন করেন। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ইট উৎপাদনের কারখানাও করেন তিন বন্ধু। তো জাহাজভাঙা কারখানার জন্য পুরোনো জাহাজ কিনতে প্রায়ই গ্রিস ও ইতালি যেতেন নাসির উদ্দিন। ১৯৮১-৮২ সালের দিকে ইতালিতে জাহাজ কিনতে গিয়ে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেই ব্যবসায়ী পোশাকের ব্র্যান্ড কারেরার স্বত্বাধিকারী। তাঁদের জিনস তৈরির কারখানা ছিল। নাসির উদ্দিন সেই কারখানাটি ঘুরে দেখেন। তখনই তাঁর মনে হয়, বাংলাদেশেও জিনসের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে তৈরি পোশাকের ব্যবসা সবে শুরু হয়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি কারখানা পোশাক রপ্তানি করছে।

দেশে ফিরেই নাসির উদ্দিন তাঁর এক শ্রীলঙ্কান বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করলেন। তাঁকে ওই বন্ধু উৎসাহ দিলেন। তাঁর পরামর্শেই বাংলাদেশে জিনস কারখানার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য জাপানি এক কোম্পানিকে নিয়োগ দিলেন। এরপর শ্রীলঙ্কা ও হংকংয়ে জিনসের কারখানা দেখতে ছুটে গেলেন চট্টগ্রামের এই ব্যবসায়ী। তিন–চার মাসের মধ্যেই জাপানি কোম্পানি ইতিবাচক প্রতিবেদন দিলে কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করলেন নাসির উদ্দিন।

default-image

১৯৮৪ সালে চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাট এলাকার ১৫০ ইকবাল রোডে জিনস তৈরির কারখানা গড়ে উঠল। তিন বন্ধুর নামের আদ্যক্ষর নিয়ে কারখানার নামকরণ করা হয় এনজেডএন ফ্যাশন। দুই লাইনের এই কারখানা থেকে ১২ হাজার ডলারের জিনসের প্রথম চালান যায় ইতালিতে। ক্রেতা সেই ‘কারেরা’। এভাবেই ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রথম বিদেশের বাজারে জিনস রপ্তানি শুরু হয়েছিল, যার নেপথ্য কারিগর ছিলেন এম নাসির উদ্দিন। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বর্তমানে ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ স্থানে রয়েছে।

নাসির উদ্দিন ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) প্যাসিফিক জিনস নামে একটি আধুনিক কারখানা গড়ে তোলেন। তত দিনে অবশ্য বাকি দুই বন্ধু এনজেডএন ফ্যাশন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। ফলে নতুনভাবে পথচলা শুরু হয় নাসির উদ্দিনের।

প্যাসিফিক জিনস গ্রুপের কারখানার সংখ্যা বর্তমানে নয়টি। বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে প্যাসিফিক গ্রুপ প্রায় পাঁচ কোটি পিস জিনস রপ্তানি করেছে। তাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এই শিল্পগোষ্ঠীতে কাজ করেন ৩২ হাজার কর্মী। বর্তমানে জিনসের পাশাপাশি নিট ও কাজের পোশাক (ওয়ার্কওয়্যার) রপ্তানি করছে তারা।

ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেন নাসির উদ্দিন। জীবদ্দশায় মর্যাদাপূর্ণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প পুরস্কার-২০২০, টানা ৭টি স্বর্ণপদকসহ ২৪টি জাতীয় রপ্তানিকারক পুরস্কার, তিনবার এইচএসবিসি বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড এবং একবার সেরা ব্যবসায়ী হিসেবে পুরস্কার পান তিনি।

বর্তমানে প্যাসিফিক জিনস গ্রুপের হাল ধরেছেন নাসির উদ্দিনের বড় ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর। তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নাসির উদ্দিনের মেঝ ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ তানসীর ও ছোট ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ তাহমীর পরিচালক, আর সহধর্মিণী সৈয়দ উম্মে হাবিবা গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে যুক্ত আছেন।

গত ১৮ জুন চট্টগ্রামে সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীরের সঙ্গে প্যাসিফিকের কারখানায় ও কারখানা প্রাঙ্গণে দীর্ঘ আলাপচারিতা হয়। বাবাকে নিয়ে টুকরো টুকরো স্মৃতি, নিজের ছেলেবেলা ও বাবার ব্যবসায় শুরু থেকে বিভিন্ন সময়ের ঘটনাবলি এবং কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন তানভীর। জানালেন, প্যাসিফিককে বৈশ্বিক কোম্পানি হিসেবে গড়ে তোলাই এখন তাঁর লক্ষ্য।

নাসির উদ্দিনকে প্রচণ্ড দেশপ্রেমীক হিসেবে আখ্যায়িত করে তানভীর বলেন, ‘বাবা প্রায়ই বলতেন, ‘‘বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে আমরা আজকের অবস্থানে আসতে পারতাম না। একাত্তরের আগে-পরে দুই আমলেই ব্যবসা করেছি। আগে অবাঙালিরা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করত। দেশ স্বাধীন না হলে আমরা শিল্প গড়তে পারতাম না। বর্তমানের মতো অবস্থানে আসার সুযোগও হতো না। দেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ তোমরা করবে না।’”

default-image

ছোটবেলাতেই ব্যবসায়ে ঝোঁক

এম নাসির উদ্দিনের জন্ম ১৯৫০ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। বাবা আবদুল জলিল ব্যবসায়ী ছিলেন। মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে দেশে বিক্রি করতেন। আবার বাংলাদেশ থেকে সেই দেশে পণ্য নিয়ে যেতেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর তাঁর দাদি আমেনা খাতুনের কাছে শুনেছেন, ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার প্রতি ঝোঁক ছিল নাসির উদ্দিনের। বলেন, ‘সীতাকুণ্ডে বহু আগে থেকেই শিল্পকারখানা ছিল। সেখানে আমাদের অনেক আত্মীয় কাজ করতেন। দাদি একবার বাবাকে বলেন, ‘‘তুমিও কাজ নাও।” বাবা তখন বলেন, ‘চাকরি করার কথা আমাকে বোলো না। তোমার এই ছেলে একদিন অনেক বড় হবে। তুমি চিন্তা কোরো না। শুধু দোয়া করো।’

ম্যাট্রিকুলেশন শেষ করে চট্টগ্রাম শহরে এসে সিটি কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হলেন নাসির উদ্দিন। ১৯৬৭-৬৮ সালের দিকে পড়াশোনার পাশাপাশি নগরীর নিউমার্কেটে তিনি জুতার দোকান দেন। তারপর ট্রেডিং ব্যবসাও করেন। মাঝে কিছুদিন পুরান কাপড় কেনাবেচার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন পরে তৈরি পোশাক খাতের অন্যতম সফল এই ব্যবসায়ী।

default-image

ব্যবসার শুরুর কথা

এনজেডএন কারখানা চালুর সময় কর্মীদের প্রশিক্ষিত করতে হংকং থেকে ১৭ জন দক্ষ লোক নিয়ে এসেছিলেন নাসির উদ্দিন। প্রথম দিকে ওয়াশ না করেই ইতালিতে জিনস রপ্তানি করা হতো। সেখানেই ওয়াশ করে ফিনিশিং করা হতো।

১৯৮৫ সালের দিকে নাসির উদ্দিন জানতে পারলেন ইতালির কারেরা জিনস কর্তৃপক্ষ তাদের একটি ওয়াশিং প্ল্যান্ট বিক্রি করবে। তিনি সেটি কিনে এনে চট্টগ্রামের ইকবাল রোডের কারখানায় বসালেন। কিন্তু সমস্যা বাধল অন্য জায়গায়। তখন জিনস ওয়াশে পিউমিক স্টোন (বিশেষ ধরনের পাথর) বেশি ব্যবহার হতো। ইন্দোনেশিয়া থেকে সেই পাথর আমদানি করতে হয়। পাথর আমদানির জন্য ঋণপত্রও খোলা হলো। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আপত্তি করল। তারা বলল, দেশেই তো অনেক পাথর আছে। সিলেটের পাথর ভালো। সেই পাথর দিয়ে জিনস ওয়াশ করেন। নাসির উদ্দিন কাস্টমসের কর্মকর্তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে পিউমিক স্টোন ছাড়া জিনস ওয়াশ করা সম্ভব না। এটা বিশেষ ধরনের পাথর। তাতেও কাজ হলো না। পরে হাতে–কলমে বিষয়টি বোঝানোর জন্য কাস্টমসের কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে গেলেন ইতালি। সেখানকার ওয়াশিং কারখানা ঘুরিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি দেখানোর পরই বরফ গলল। কাস্টমস িবভাগ অনুমোদন দিল।

default-image

কারখানায় একচক্কর

প্যাসিফিক জিনস গ্রুপের নয়টি কারখানার মধ্যে ছয়টিই সনদপ্রাপ্ত পরিবেশবান্ধব। কারখানাগুলো হচ্ছে প্যাসিফিক জিনস, জিনস ২০০০, ইউনিভার্সেল জিনস, এনএইচটি ফ্যাশন, প্যাসিফিক ক্যাজুয়াল ও প্যাসিফিক ওয়ার্কওয়্যার।

গত ১৮ জুন দুপুরের পর প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ইউনিভার্সেল জিনসের কারখানায় গেলাম। ২০০৮ সালে কারখানাটিতে উৎপাদন শুরু হয়। তখনও পরিবেশবান্ধব কারখানার সনদ পায়নি কারখানটি। তবে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহার কমানো ও ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের চেয়ে কম রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কারখানা ভবনের নকশা করা হয়।

কারখানার সিঁড়ির নকশাটি এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি তলায় প্রাকৃতিক বাতাস আসতে পারে। তৃতীয় তলায় ফটকে দাঁড়িয়ে বিষয়টি আঁচ করা গেল। এ কারণে বাইরের চেয়ে কারখানার ভেতরে তাপমাত্রা তিন–চার ডিগ্রি কম থাকে। তা ছাড়া প্রতিটি তলার মেঝেতে বিশেষ একধরনের রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক বাতির আলো সেই বিশেষ রঙে প্রতিফলিত হয়। তাতে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৈদ্যুতিক বাতিতে কাজ করতে পারেন শ্রমিকেরা।

কারখানাটির ওয়াশিংয়ের তরল বর্জ্য পরিশোধনাগারের (ইটিপি) পাশাপাশি পুনরায় ব্যবহারের আধুনিক প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। পরিশোধনের পর সেই পানি আবারও ব্যবহার করা হয়। এতে পানির অপচয় ৮০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। তানভীর বলেন, ‘ওয়াশিংয়ের তরল বর্জ্য পরিশোধনে আমরা এমন জায়গায় পৌঁছেছি যে পরিশোধনের পর সেই পানি খাওয়াও যাবে। শিগগিরই আমরা আমাদের অন্য কারখানাগুলোতেও একই ব্যবস্থা বসাব।’

default-image

প্যাসিফিক যেখানে এগিয়ে

সস্তা পোশাক তৈরিতে বাংলাদেশের কারখানাগুলোর খ্যাতি বেশি। তবে প্যাসিফিক জিনস গ্রুপ শুরু থেকেই বেশি দামের জিনস তৈরি করছে। এখনো বেশির ভাগ কারখানা যেখানে গড়ে ৬-৭ ডলার দামের জিনস তৈরি করছে, সেখানে প্যাসিফিক করছে গড়ে ১০ ডলারের।

বেশি দামের জিনসে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নাসির উদ্দিন ২০০২ সালে নিত্যনতুন নকশার জিনস উদ্ভাবনে মনোযোগ দেন। গড়ে তোলেন দক্ষ কর্মিবাহিনী। বর্তমানে নতুন নতুন নকশার ডেনিম কাপড় ও জিনস তৈরির কাজ করেন দেড় শ কর্মী। তানভীর বলেন, ‘২০ বছর আগে থেকেই আমরা ফ্যাশন ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করে প্রত্যেক ক্রেতার জন্য আলাদা আলাদা নকশার জিনসের নমুনা তৈরি করছি। আমরা সারা বছর যে পরিমাণ পোশাক তৈরি করি, তার ৪৫-৫০ শতাংশই আমাদের নিজস্ব নকশার।’

নেতৃত্বে দ্বিতীয় প্রজন্ম

নাসির উদ্দিনের বড় ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর পড়াশোনা শেষ করে ২০০৪ সালে প্যাসিফিকে পরিচালক পদে যোগ দেন।

বর্তমানে তানভীরের ছোট ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ তাহমীরও ব্যবসায়ে সময় দেন নিয়মিত। তানভীরের স্ত্রী লুৎফেমা ফরিদ ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সঙ্গে যুক্ত। তানভীর বলেন, ‘আমার বাবা সব সময়ই সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন। আমরা ভাইয়েরাও সেই চর্চাই করছি। কোম্পানি থেকে আমরা কোনো মুনাফা নিই না। মাস শেষে শুধু নির্দিষ্ট অঙ্কের বেতন পাই।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তানভীর বলেন, ‘আমরা বৈশ্বিক লাইফওয়্যার সলিউশন (জীবন যাপনে দরকারী সব পোশাক) কোম্পানি হতে চাই। সেটির জন্য আমরা ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। নতুন নতুন পণ্য রপ্তানির দিকে যাচ্ছি।’

২০২৮ সালের মধ্যে প্যাসিফিক জিনস গ্রুপের রপ্তানি ১০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথা বললেন তানভীর। বর্তমানে ব্যবসা টেকসই করার দিকেও মনোযোগ দিয়েছেন তিনি। বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে পানির অপচয় ৮০ শতাংশ হ্রাস করেছি। বর্তমানে আমাদের চাহিদার মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে আসছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সেটিকে আমরা ৫০ শতাংশে উন্নীত করতে চাই। ওই বছরের মধ্যেই কার্বন নিঃসরণ ৬৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি আমরা।’

default-image

সমাজসেবায় প্যাসিফিক জিনস

কোনোরকম প্রচার–প্রচারণা ছাড়াই সমাজসেবা করে যাচ্ছে প্যাসিফিক জিনস ফাউন্ডেশন। প্রতিবছর সীতাকুণ্ডের দেড় হাজার মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে বৃত্তি দিচ্ছে তারা। এর মধ্যে স্থানীয় ২৬টি স্কুলের ৯০০, ৬টি কলেজের ৩০০ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সীতাকুণ্ডের ৩০০ শিক্ষার্থী আছেন। যাঁরা বেশি দরিদ্র, তাঁদের পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি খাওয়ার খরচও দেয় এই ফাউন্ডেশন। এ ছাড়া সীতাকুণ্ডের দরিদ্র মানুষকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে চট্টগ্রাম মেডিকেলের সঙ্গে চুক্তি করেছে প্যাসিফিক জিনস ফাউন্ডেশন। এক পাতার একটি ফরম পূরণ করেই সেবাটি নিতে পারেন তাঁরা।

বছর পাঁচ-ছয় আগে উদ্যোগগুলো শুরু হলেও সমাজসেবার কাজটি বহু আগেই শুরু করেছিলেন নাসির উদ্দিন। সীতাকুণ্ডে তাঁর বাবা আবদুল জলিলের নামে উচ্চবিদ্যালয়, মা আমেনা খাতুনের নামে প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালুশাহ গার্লস হাইস্কুল ও বাড়বকুণ্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ অংশটি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।

default-image

শেষ কথা

প্যাসিফিক জিনস গ্রুপের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম ইপিজেডের এনএইচটি ফ্যাশন কারখানার ওপর তলায়। সেখানে ঢুকতেই চোখে পড়ে প্রয়াত নাসির উদ্দিনের হাস্যোজ্জ্বল ছবি। কয়েক মাস আগে ছবি হয়ে যাওয়া মানুষটি সশরীর আর অফিসে আসেন না। তবে প্রতিটি জায়গাতেই তাঁর স্মৃতি রয়ে গেছে। তাঁর সাজানো–গোছানো অফিস কক্ষটি আগের মতোই আছে।

বর্তমানে প্যাসিফিক জিনস গ্রুপের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলার বা ৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। তাদের কোনো ব্যাংকঋণ নেই। মুনাফা থেকেই ব্যবসা সম্প্রসারণের বিভিন্ন কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানকে এমনই এক অনন্য উচ্চতায় রেখে গেছেন নাসির উদ্দিন। সেটিকে দক্ষ হাতে এগিয়ে নিচ্ছে দ্বিতীয় প্রজন্ম।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন