শুধু সায়হাম টেক্সটাইল ও কটন মিলই নয়, হবিগঞ্জে গড়ে ওঠা শতাধিক শিল্পকারখানা এখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকটে পড়েছে। এতে তাদের উৎপাদন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এই অবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠানই লোকবল কমানোর চিন্তা করছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে হবিগঞ্জ জেলার ওলিপুর থেকে মাধবপুর উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৮–১০ বছর আগে শতাধিক শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারের সুয়োগ থাকার কারণেই মূলত হবিগঞ্জে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হয়েছিল।

দেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড, রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড, হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ড এবং শাহজিবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র ও বিবিয়ানা বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। হবিগঞ্জের পাঁচটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়ে থাকে। কিন্তু বিদ্যুৎ ও গ্যাসের পর্যাপ্ততাকে বিবেচনায় নিয়ে সেখানে গড়ে ওঠা কারখানাগুলো এখন বিপর্যয়ে পড়েছে।

সাফকো স্পিনিং মিল লিমিটেডের পরিচালক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা এত দিন ৭০টি মেশিন চালিয়ে আসছিলাম। বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে এখন ৩২টি মেশিন চালাতে হচ্ছে। তা–ও পরিমাণমতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।’

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের জেনারেল ম্যানেজার দীপক কুমার দেব বলেন, ‘আমরা এখন কঠিন সময় পার করছি। গ্যাসের চাপ কম থাকায় বাধ্য হয়ে কারখানার উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি জানান, এই শিল্প পার্কে ৩০ হাজার মানুষ কাজ করেন।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের উপমহাব্যবস্থাপক মাহবুবুল আলম বলেন, ‘গ্যাস সমস্যা শুধু এই এলাকার নয়, এটি এখন দেশের সমস্যা। আমরা যে গ্যাস উৎপাদন করি, তা জাতীয় গ্রিডে সরাসরি চলে যায়।’

জানতে চাইলে জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিভিশনের ডিজিএম রাহুল করিম প্রথম আলোকে জানান, এটি এখন জাতীয় ইস্যু। এই বিষয়ে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ঢাকা থেকে বিস্তারিত অবহিত করেন। তাই তাঁর মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নেই।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন