বাসস জানিয়েছে, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর, মৌলভীবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী ড্রাই ডক এসইজেড, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্থনৈতিক অঞ্চল, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল, কক্সবাজারে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় হোসেন্দি অর্থনৈতিক অঞ্চলে একযোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

* ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে ২৯টি কারখানা ও ২টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের। এসব কারখানায় বিনিয়োগ হবে ৬১ কোটি ডলার। * বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে এখন পর্যন্ত ১৩৬টি প্রতিষ্ঠান জমি নিয়েছে।

যেসব কারখানার উদ্বোধন করা হয়েছে, তার মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে ৪টি, সিটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২টি, মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৭টি এবং শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১টিসহ মোট ১৪টি কারখানার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় ৯৭ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে ২৯টি কারখানা ও ২টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের। যে ২৯টি কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে প্রায় ৬১ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।

মেঘনার অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ৭ কারখানার উদ্বোধন

আমাদের নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) সাতটি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে গতকাল। এ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার টিপরদী এলাকায় মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এমআইইজেড) বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন স্বাগত বক্তব্য দেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক তায়েফ বিন ইউসুফ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন, বেজার নির্বাহী সদস্য আলী আহসান, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মেঘনা গ্রুপের মালিকানাধীন মেঘনা পিভিসি, মেঘনা ফয়েল প্যাকেজিং, সোনারগাঁও সোলার এনার্জি ও মেঘনা বাল্ক ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে। এ ছাড়া কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেঘনা গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও মেঘনা রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বাইরে এমআইইজেডে বিনিয়োগ করা সাতটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানেরও উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, নতুন সাতটি প্রতিষ্ঠানে এ পর্যন্ত ৫৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আর কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে সেখানে ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হবে। আর কর্মসংস্থান হবে ৫০ হাজার লোকের।

দেশে প্রথমবারের মতো মেঘনা গ্রুপ পিভিসি উৎপাদন করতে যাচ্ছে জানিয়ে মোস্তফা কামাল বলেন, দেশে বছরে মোট সাড়ে তিন লাখ টন পিভিসির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে মেঘনা পিভিসি পৌনে দুই লাখ টন পিভিসি উৎপাদন করবে। বর্তমানে চাহিদার পুরোটাই আমদানি করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে চালু হলো চার কারখানা

আমাদের মিরসরাই প্রতিনিধি জানান, মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে চারটি কারখানার বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর বাইরে এ শিল্পনগরে নয়টি কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ শিল্পনগরে যেসব কারখানা চালু হয়েছে, সেগুলো হলো ভারতের এশিয়ান পেইন্টস, জাপানের নিপ্পন, ম্যাকডোনান্ড স্টিল ও টিকে গ্রুপের সামুদা কনস্ট্রাকশন। একই সঙ্গে এ শিল্পনগরের প্রশাসনিক ভবন, ২০ কিলোমিটার শেখ হাসিনা সরণি, ২৩০ কেভিএ গ্রিডলাইন ও সাবস্টেশন এবং একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

কারখানা ও অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর প্রান্ত থেকে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, মিরসরাইয়ের সাংসদ মোশাররফ হোসেন, বেজা চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন, বাংলাদেশ ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফওয়ান সোবহান প্রমুখ।

মিরসরাইয়ের ৩০ হাজার একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৩ একর জমিতে ১৩৬টি প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপনের জন্য জায়গা নিয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৭৮৪ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এ শিল্পনগরে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।