এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার, সহ-উপাচার্য আবদুল জব্বার খান ও সাবেক অধ্যাপক শামীম জেড বসুনিয়া। প্রকৌশলীদের পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) সভাপতি মো. নূরুল হুদা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ জুবায়ের সালেহীন, জিপিএইচ ইস্পাতের কারখানা প্রধান সাইয়েদ সুমন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক রাকিব আহসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘যুগের প্রয়োজনে দেশের সব জায়গায় এখন পরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নত মানের পণ্য তৈরিতে বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক সক্ষমতা অর্জন করেছে। জিপিএইচ ইস্পাত সেই অগ্রযাত্রায় আমাদের আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের নির্মাণ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।’

উন্নত মানের রড তৈরিতে বৈশ্বিক নেতৃত্বের স্থানে যেতে পেরেছি। ইতিমধ্যে সাড়ে ৭ কোটি মার্কিন ডলারের রড রপ্তানিও করেছি আমরা
—মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চেয়ারম্যান, জিপিএইচ গ্রুপ

জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ইউরোপ থেকে বিশ্বমানের উন্নত প্রযুক্তি এনে বাংলাদেশে নতুন প্রযুক্তির রড উৎপাদন শুরু করেছে জিপিএইচ গ্রুপ। এখন সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বের যেকোনো গ্রেডের রড তৈরি করতে পারছি আমরা। ফলে উন্নত মানের রড তৈরিতে বৈশ্বিক নেতৃত্বের স্থানে যেতে পেরেছি। সেই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে পাঁচটি জাহাজে করে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ (৭৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রড রপ্তানিও করেছি আমরা।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পরীক্ষিত এ ধরনের রড দেশের ক্রমবর্ধমান বসতি ও অবকাঠামো চাহিদা সঠিকভাবে পূরণ করতে পারবে বলে জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে জিপিএইচ ইস্পাতের উপদেষ্টা আবু সাঈদ মো. মাসুদ বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বেশ আগে থেকেই কোয়ান্টাম ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস প্রযুক্তির রড উৎপাদিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও সেই পথচলা শুরু করল জিপিএইচ ইস্পাত। ২০২১ সাল থেকে নতুন এই রডের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করে জিপিএইচ ইস্পাত। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিশ্বের প্রথম সারির ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করা হচ্ছে।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক রাকিব আহসান বলেন, পরিবেশবান্ধব এই রড বাজারের অন্য যেকোনো রডের তুলনায় বেশি শক্তিশালী। এটি ব্যবহারে নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ রড কম লাগবে। একই সঙ্গে কমাবে শ্রমিক, পরিবহন খরচ ও সময়ের পরিমাণ। নতুন এই রড ব্যবহারে ভবন নির্মাণের সময় কলামের সেকশন সাইজ কমানো সম্ভব হবে। এতে ফ্লোরের জায়গা বাড়বে। এ ছাড়া এই রডের স্থায়ী ও পর্যায়ক্রমিক (সাইক্লিক লোডিং) ভার বহনের সক্ষমতাও বেশি। ফলে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে স্থাপনা অধিক নিরাপদ থাকবে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জিপিএইচ ইস্পাতের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর কবির।

জিপিএইচের কর্মকর্তারা জানান, নতুন প্রযুক্তির এ রড দেশের বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহার করা যাবে। প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী এ রড তৈরি করবে প্রতিষ্ঠানটি।