ভোজ্যতেলের দাম এক ফোঁটাও বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ভোজ্যতেলের দাম এক ফোঁটাও বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই। কারণ, বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সচিবালয়ে আজ সোমবার বিকেলে ‘ভোজ্যতেলের সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি’ পর্যালোচনার জন্য ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী যখন বলছেন বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে, তখন রাজধানীর একাধিক বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ একেবারে নেই বললেই চলে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের অধিকাংশ দোকানে তেল নেই বলে জানিয়েছেন বাজারের একাধিক দোকানদার। তাঁরা বলেন, কিছুসংখ্যক দোকানে হাতে গোনা কিছু তেল আছে। সরবরাহ–ঘাটতি তৈরি হওয়ায় তাঁদের কেউ কেউ সেসব তেল বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।
ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাজারে বর্তমানে ১ লাখ ৭০ হাজার টন ভোজ্যতেলের মজুত রয়েছে। আর পাইপলাইনে আছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টন। এ ছাড়া ঋণপত্র (এলসি) খোলার কাজও চলমান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাময়িকভাবে কিছু জায়গায় ভোজ্যতেল সরবরাহের চাপ তৈরি হয়েছে। কারণ, আতঙ্কিত হয়ে অনেকে অতিরিক্ত কেনাকাটা করেছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম কয়েক দিন ধরে কোথাও কোথাও ভোজ্যতেলের সংকট বা লিটারে দুই টাকা বেশি দামে বিক্রির খবর প্রকাশ করেছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য বসেছিলাম। জানতে পেরেছি, বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। কোথাও কোথাও ভোক্তাদের আতঙ্কিত হয়ে বেশি বেশি কেনার প্রবণতা রয়েছে। এ কারণে সাময়িকভাবে কিছু দোকানে মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে।’
রাজধানীর একটি বাজারে গিয়ে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও দাম পরিস্থিতি নিজে দেখেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘রাস্তার পাশে বড় দোকানগুলোতে ভোজ্যতেল পর্যাপ্ত রয়েছে এবং বোতলের গায়ে নির্ধারিত দামই লেখা আছে। তবে বাজারের ভেতরের একটি দোকানে সীমিত তেল মজুত রেখে প্রতি লিটারে দুই থেকে তিন টাকা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল।’
বাণিজ্যমন্ত্রী ভোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, আতঙ্কিত হয়ে বেশি বেশি কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। বাজারে যেহেতু পণ্য আছে, তাই অযথা প্রতিযোগিতা করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মতো ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে কোনো সংকট নেই। জ্বালানি তেল, গ্যাস বা ভোজ্যতেল—কোনোটিতেই সংকট নেই। তাই এসব পণ্যের সঙ্গে ‘সংকট’ শব্দটি যুক্ত করে অযথা বিভ্রান্তি তৈরি করবেন না।
বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করার আশ্বাস দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভোজ্যতেলের দাম এক ফোঁটাও বাড়বে না। ভোক্তারা নিশ্চিন্তে বাজার করতে পারেন।