যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখনো দ্বিতীয়, অন্য দেশের অবস্থান কোথায়

রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পে কাজ করছেন শ্রমিকেরাফাইল ছবি: প্রথম আলো

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। যদিও বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে। অন্যদিকে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে।

ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে বাংলাদেশ ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ১ শতাংশ কম। যদিও রপ্তানি কমার এই হার যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক তৈরি পোশাক আমদানির বাজার সংকোচনের চেয়ে সামান্য কম। তার মানে চাহিদা কমার কারণেই মূলত বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে দেশটি ৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেড় শতাংশ বেশি।

অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা গত জানুয়ারি-মে সময়ে ২৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। গত বছরের প্রথম ৫ মাসে ৩১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছিলেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।

জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাহিদা কিছুটা বাড়লেও এখনও আগের অবস্থায় ফেরেনি। ফলে শিগগিরই রপ্তানি খুব বেশি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে তদন্ত করছে। সেই তদন্তের পর নতুন করে শুল্ক আরোপের শঙ্কাও আছে। ফলে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রয়াদেশ দেওয়ার বিষয়ে কিছুটা সর্তক আছে। এই দুই তদন্তের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্য দেশ কোথায়

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দীর্ঘদিন শীর্ষস্থানে থাকা চীন ধারাবাহিকভাবে বাজার হারাচ্ছে। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো পাল্টাশুল্কসহ ভূরাজনৈতিক কারণে চীন থেকে তাদের ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে চীন ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম। শুধু অর্থের হিসাবে নয়, তৈরি পোশাকের পরিমাণের দিক থেকেও চীনের সরবরাহ এই সময়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। চলতি বছরের মে মাস শেষে চীন তৃতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও গত বছরের একই সময়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল।

চীনের হারানো ব্যবসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি এগিয়ে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার তৈরি পোশাক রপ্তানি যথাক্রমে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে ১ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ও কম্বোডিয়া থেকে ১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।

এই বাজারে বাংলাদেশের আরেক প্রতিযোগী দেশ ভারতের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে দেশটি ১ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। রপ্তানি প্রায় ২৬ শতাংশ কমে যাওয়া ভারত এই বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চতুর্থ থেকে পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে। চতুর্থ স্থান দখল করে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। আর ষষ্ঠ শীর্ষ স্থানে রয়েছে কম্বোডিয়া।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বছর শুরুর দিকে তৈরি পোশাকের চাহিদা কম থাকলেও মে মাসে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, এই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আমদানি ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ শতাংশের মতো। যদিও মাসটিতে চীনের ১৮ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ২৩ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৮ শতাংশ।

কে কত ডলারে বিক্রি করছে

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সামগ্রিকভাবে চাহিদা কম থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির মূল্য মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। গত জানুয়ারি-মে সময়ে এই বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি করা তৈরি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ছিল ২ দশমিক ৯৯ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কম। যদিও এই সময়ে বৈশ্বিক গড় মূল্য ছিল ৩ দশমিক ১৪ ডলার।

এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগী দেশ চীন ১ দশমিক ৪৩ ডলার, পাকিস্তান ২ দশমিক ৫৯ ডলার ও কম্বোডিয়ার রপ্তানি করা তৈরি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ছিল ২ দশমিক ৯১ ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়ে কম। অন্যদিকে ভিয়েতনাম ৩ দশমিক ৩৯ ডলার, ভারত ৩ দশমিক ৪১ ডলার, হন্ডুরাস ৩ দশমিক ৬৪ ডলার, ইন্দোনেশিয়া ৩ দশমিক ৭৭ ডলার ও মেক্সিকোর রপ্তানি করা তৈরি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ছিল প্রতি ইউনিট ৪ দশমিক ৪৫ ডলার, যা কিনা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।