মূল প্রবন্ধে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এক দশক ধরে দেশে রাসায়নিক দুর্ঘটনা বাড়ছে। কিন্তু রাসায়নিকজনিত দুর্ঘটনা দেখভাল করার জন্য আমাদের যে ধরনের নিরাপত্তাকাঠামো দরকার, তা নেই। রাসায়নিক উৎপাদন থেকে শুরু করে আমদানি-রপ্তানির বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা নিরাপত্তাকাঠামোও অপর্যাপ্ত এবং অসম্পূর্ণ। এর ফলে শিল্পঝুঁকি ও মৃত্যুঝুঁকি—দুটোই বাড়ছে।’

সিপিডি ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশ এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। গতকাল বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নুজহাত জেবিন ও সিপিডির গবেষণা ইন্টার্ন জেবুন্নেসা জেবা।

অনুষ্ঠানে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, বর্তমানে দেশে ২৫১টি শিল্পকারখানা রাসায়নিক উৎপাদন করছে। এসব কারখানায় প্রায় ৩৩ হাজার শ্রমিক রয়েছে। এ ছাড়া ১৪৯টি প্রতিষ্ঠান ওষুধ তৈরি করছে। এই খাতেও রাসায়নিকের অনেক ব্যবহার হয়। কিন্তু বড় আকারের প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যরা নিয়মিত নজরদারির মধ্যে থাকে না। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

শুধু উৎপাদন পর্যায়েই নয়, আমদানি-রপ্তানিসহ রাসায়নিকের পুরো সাপ্লাই চেইন তথা সরবরাহব্যবস্থায় নিরাপত্তার দুর্বলতা আছে বলে জানান গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, নিরাপত্তার দুর্বলতার জন্যই রাসায়নিক দুর্ঘটনা বাড়ছে।

গত ৪ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) একটি কনটেইনারে আগুন লাগার পর তা আশপাশের শেড ও কনটেইনারে থাকা হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডেও ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৪৯ জন নিহত ও দেড় শতাধিক মানুষ আহত হন।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই দুর্ঘটনায় বড় ধরনের শিল্পনিরাপত্তার দুর্বলতা বেরিয়ে এসেছে। এটি শুধু একটি কনটেইনারের ঘটনা নয়, বিপজ্জনক রাসায়নিকের উৎপাদন থেকে বিপণনের প্রতিটি পর্যায়ে দুর্বলতা আছে।

দুর্ঘটনার পর ওই ডিপোতে সরেজমিন গিয়েছেন জানিয়ে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সেখানে স্বাভাবিক পণ্য মজুতের অনুমতি থাকলেও রাসায়নিক রাখার অনুমোদন ছিল না। আর রাসায়নিক দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উপকরণও ছিল না সেখানে।

রাসায়নিক দুর্ঘটনার জন্য বিদেশি ক্রেতাদেরও প্রশ্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নুজহাত জেবিন। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতের ক্রেতারা পুরো সরবরাহব্যবস্থায় নিরাপত্তার বিষয়টি দেখে পণ্য ক্রয় করেন। কিন্তু রাসায়নিক পণ্যের ক্রেতারা সেটা ঠিকভাবে করেন কি না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন করার প্রয়োজন আছে।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সিপিডি জানায়, দেশে বিপজ্জনক রাসায়নিকের উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি বাড়ছে। যেমন ২০১০ সালে দেশ থেকে ২ লাখ ৬৬ হাজার মার্কিন ডলারের হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রপ্তানি হতো। এক দশকের ব্যবধানে ২০২১ সালে রপ্তানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার। আরেক রাসায়নিক ইউরিয়ার রপ্তানিও এখন ৩০ কোটি ২৯ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন