২০০০ ফ্ল্যাট গড়েছে কমপ্রিহেনসিভ

দুই দশক আগে যাত্রার শুরু থেকেই আধুনিক আবাসিক প্রকল্প নির্মাণ করছে কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংস। সময় যত গড়িয়েছে, ততই প্রতিষ্ঠানটি বৈচিত্র৵ময় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রকল্প করছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১৭টি আবাসন প্রকল্প গ্রাহকদের বুঝিয়ে দিয়েছে কমপ্রিহেনসিভ। এসব প্রকল্পে ফ্ল্যাট দুই হাজারের বেশি। আবাসিক প্রকল্পের বিপরীতে বাণিজ্যিক প্রকল্পে নজর কম তাদের। এ পর্যন্ত মাত্র একটি বাণিজ্যিক প্রকল্প নির্মাণ করছে তারা এবং একটি চলমান ও শান্তিনগরে ৮ লাখ ৭৮ হাজার বর্গফুটের একটি বৃহৎ প্রকল্প অপেক্ষমান।

কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় প্রকল্প না করে ঢাকার অভিজাত ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক প্রকল্প নির্মাণ করেছে কমপ্রিহেনসিভ। তাদের প্রকল্পগুলো ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, গুলশান, বনানী, পশ্চিম ধানমন্ডি, শ্যামলী, মগবাজার, উত্তরা, বসুন্ধরা, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, সেন্ট্রাল রোড, এলিফেন্ট রোড, ঝিগাতলা, আফতাবনগর, মালিবাগ, পুরান ঢাকা ও মোহাম্মদপুরসহ অনেক এলাকায় রয়েছে। 

জানা যায়, বর্তমানে ৪০টি আবাসিক প্রকল্পের নির্মাণকাজ করছে কমপ্রিহেনসিভ। এসব প্রকল্পে এক হাজারের বেশি অ্যাপার্টমেন্ট থাকবে। এসব প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সিদ্ধেশ্বরী এলাকার ৮৮ কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রকল্প ‘কমপ্রিহেনসিভ আমিনাবাদ হাউজিং’। এই প্রকল্পে চারটি টাওয়ারের পাশাপাশি পাঁচতলা একটি পৃথক কমিউনিটি ভবন ও শিশুদের খেলার জায়গা থাকবে। 

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, তাঁদের মূল দর্শন হচ্ছে—মানসম্মত নগর আবাসন, সঠিক লোকেশন এবং গ্রাহকের আস্থাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করা। তাই প্রকল্প নির্বাচন থেকে শুরু করে নকশা, নির্মাণ, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, হস্তান্তর ও বিক্রয়োত্তর সেবা—প্রতিটি ধাপকে একইভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। 

নির্মাণের মান নিশ্চিত করতে রড, সিমেন্ট, কংক্রিট, ইট, স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের মান যাচাই করা হয়। প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজের মান পর্যবেক্ষণের জন্য মাননিয়ন্ত্রণ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথাও জানালেন কর্মকর্তারা।

প্রকল্পের নকশা ও নির্মাণে বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণ করার কথা জানালেন কমপ্রিহেনসিভের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, ভবনের কাঠামোগত নকশায় ভূমিকম্পপ্রবণতা বিবেচনায় রাখা হয়। অগ্নিনিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী আগুন শনাক্ত ও নির্বাচনব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন ও অগ্নিনিরাপত্তার সরঞ্জাম রাখা হয়। প্রকল্পের ধরন ও নকশা অনুযায়ী অগ্নিনিরাপত্তার পরিকল্পনাকে পুরো ভবনের নকশার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিরাপত্তা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়, এটি একটি দায়িত্বশীল আবাসন প্রকল্পের মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

জানা যায়, নির্মাণকাজের শেষে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পরও গ্রাহকসেবা চালু রাখে কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংস। নির্মাণসংক্রান্ত সমস্যা, ফিনিশিংয়ের ত্রুটি বা কারিগরি বিষয়ে অভিযোগ এলে গ্রাহকসেবা ও কারিগরি দল তা যাচাই করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়।

কমপ্রিহেনসিভের কর্মকর্তারা বলেন, আগামী দিনের আবাসন প্রকল্পে বিভিন্ন শ্রেণির পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপার্টমেন্টের আকার, মূল্য পরিশোধের কাঠামো ও জীবনযাপনের সুবিধার সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. মাসুদ ইব্রাহিম বলেন, কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংসের যাত্রার মূল প্রেরণা এসেছে বাংলাদেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল নগরজীবন এবং একটি নিরাপদ, মানসম্মত ও পরিকল্পিত আবাসনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা থেকে।