আইএমএফের ঋণ নিয়ে মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘তারা তো শর্ত দেবেই, কিন্তু আমাদের মধ্যস্থতার ক্ষমতা থাকতে হবে। তারা তাদের কথা বলবে। আমাদের কথাও তাদের কাছে তুলে ধরতে হবে। অবশ্যই আমাদের ফরেন কারেন্সি (ডলার) দরকার, তার অর্থ এই নয়, সমস্ত কিছু জলাঞ্জলি দিয়ে তাদের থেকে ডলার নিতে হবে।’

গতবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘তখন এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে আইএমএফ বসেছিল। আমরা তখন প্রণোদনার অর্থ ফেরত দিতে সময় বাড়ানো নিয়ে কাজ করছি। তখন তারা উল্টো টাকা দ্রুত ফেরত দিতে বলল। এতে বোঝা যায়, তারা তাদের মতো করে বলার চেষ্টা করে। আমাদেরকে আমাদের কথা বোঝাতে হবে।’

দেশের ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যখন ডলার–সংকটের কারণে ঋণপত্র খুলতে পারছেন না, তখন কিছু ব্যাংক ডলারের ব্যবসা করে মাসে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত মুনাফা করেছে। অবশ্য এই সময়ে মানুষ শেয়ারবাজার ছেড়ে ডলারের ব্যবসায় নেমেছে। কিন্তু সংকটকে পুঁজি করে এমনটা করা ঠিক না।’

ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে মো. জসিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমি নিজেও একটা ব্যাংকের চেয়ারম্যান। কিন্তু এফবিসিসিআই সভাপতি হিসেবে বলছি, ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা থাকা দরকার। সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তাতে পরিস্থিতি আগের চেয়ে কিছুটা ভালো।’

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অনেক অর্থনীতিবিদ ব্যাংক খাতের চলমান সুদহার তুলে নেওয়ার পক্ষে মত দিলেও এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই না ব্যাংকের বর্তমান সুদহার উঠিয়ে দেওয়া হোক। তাতে ব্যবসায়ীরা আরও চাপে পড়বেন, শিল্প উৎপাদন আরও কমতে পারে।’

দেশের বর্তমান জ্বালানিসংকট নিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘সরকারের ওপর দোষ চাপিয়ে লাভ নেই। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেশি। সংকট সেখান থেকেই শুরু। সংকট কাটাতে সরকার সর্বাত্মক কাজ করছে। তবে ঢাকার বাইরে বিদ্যুতের ঘাটতি বেশি। যদি নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয়, আমরা প্রয়োজনে জ্বালানির দাম কিছুটা বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এত টাকা, অত টাকা পাচার হয়েছে না বলে পাচারকারীকে ধরা হোক। শুধু কথা বললে হবে না। তাদের শক্ত করে ধরতে হবে।’

ইআরএফ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সহসভাপতি শফিকুল আলম ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম।