দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতে ইতিমধ্যে দেড় শতাধিক পরিবেশবান্ধব কারখানায় উৎপাদন রয়েছে। তবে সরকারের সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় উদ্যোক্তারা কারখানা স্থাপনে বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন। তাই সরকারের কাছে নীতিমালাসহ ঋণ সহায়তা চেয়েছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা।
আজ রোববার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে বাংলাদেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিয়ে এক সংলাপে এসব দাবি জানান বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা । গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও বাংলাদেশে অবস্থিত সুইডিশ দূতাবাস এই সংলাপের আয়োজন করে।
আলোচনায় সরকারি নীতিনির্ধারক, শ্রমিক-মালিকপক্ষ, বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।
সভায় বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, দেশে এখন ১৫৭টি পরিবেশবান্ধব বস্ত্র ও পোশাক কারখানা আছে, যার মধ্যে ৪৭টি প্লাটিনাম ও ৯৫টি গোল্ড ক্যাটাগরির। নিকট ভবিষ্যতে এই খাতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। অথচ পরিবেশবান্ধব কারখানার বিষয়টি এখনো অবমূল্যায়িত হচ্ছে। পরিবেশের সুরক্ষায় এই খাতে সরকারের বড় সহায়তা প্রয়োজন।
পরিবেশবান্ধব কারখানা নিয়ে সরকারের স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, পরিবেশবান্ধব শিল্প নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সমন্বয়হীনতা আছে। শাশা ডেনিমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, কারখানা স্থাপনের জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক (কেমিক্যাল) আমদানির ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা আছে। এসব নিয়ে আবার বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে গেলে কাজ হয় না। এনবিআর, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে যেতে হয়। এই প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।
সরকারের কাছে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ সুবিধার দাবি জানিয়ে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সব ধরনের খরচ বেড়ে গেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপন করা অনেক উদ্যোক্তার পক্ষে কঠিন। তাঁরা এর সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না। তাই এই খাতে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ সুবিধাসহ সরকারের পৃথক নীতি প্রয়োজন।
সভায় পরিবেশবান্ধব শিল্প কারখানা স্থাপন নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ স্বাগত জানান পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ আমরা কেবল বস্ত্র ও পোশাক খাতে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না, অন্যান্য খাতেও পরিবেশের গুরুত্ব নিশ্চিত করতে হবে।’ সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা সবাই মিলে বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ দিন। আপনারা যদি আমাদের ও মন্ত্রণালয়কে বোঝাতে সক্ষম হন (কনভিন্স করতে পারেন), তাহলে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এটা দাবি হিসেবে উপস্থাপন করব, এ নিয়ে সরকার ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে মিলে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে অবস্থিত সুইডিশ দূতাবাসের উন্নয়ন সহযোগী বিভাগের প্রধান ক্রিশ্চিনা জোহানসন, আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার প্রমুখ।
দেশে পরিবেশবান্ধব টেকসই ও জলবায়ু-নিরপেক্ষ অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিকাশ ঘটাতে একসঙ্গে কাজ করছে সিপিডি ও সুইডিশ দূতাবাস। তার অংশ হিসেবে অংশীজনদের নিয়ে এই সভা আয়োজন করে তারা।