চামড়া পাচার ঠেকাতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

কোরবানির কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন করেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকায়, ২৯ মে ২০২৬ছবি: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

প্রতিবছর চামড়া পাচারের অভিযোগ শোনা যায় উল্লেখ করে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘আমরা চাই না দেশ থেকে একটি চামড়াও পাচার হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকায় কোরবানির কাঁচা চামড়া কেনা–বেচা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়াশিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য। জুলাইয়ের মধ্যে চামড়া খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিসক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

আবদুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসায়ীদের হাতে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া এসেছে। লবণ মাখানোর কার্যক্রমও চলছে। কাঁচা চামড়া সংগ্রহ লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানো যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

দেশে চামড়াজাত পণ্যের বাজার ও রপ্তানির পরিমাণ ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পশুর চামড়া ছাড়ানোর প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও যন্ত্রনির্ভর করার পরিকল্পনা করছি।’

হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের পরও অনেক ট্যানারি পুরোপুরি কার্যক্রম চালু করতে পারেনি জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়াশিল্প নগরের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এগুলো সমাধান করে আরও বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারলে দেশের সব চামড়া শিল্পায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সিইটিপির পরিশোধনসক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার ঘনমিটার হলেও বাস্তবে তা ১৪ থেকে ১৮ হাজার ঘনমিটারে সীমাবদ্ধ থাকছে। সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।

এ সময় শিল্পসচিব ওবায়দুর রহমান, বাণিজ্যসচিব (রুটিন দায়িত্ব) আবদুর রহিম খান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) মহাপরিচালক সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন