গতকাল রোববার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় বক্তাদের উদ্বেগ, এখনই ঋণপত্রের (এলসি) ব্যবস্থা না হলে আগামী রমজান মাসে ফলের বাজার অস্থিতিশীল হতে পারে, তাতে খেজুরের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে চাহিদা অনুযায়ী ঋণপত্র খুলতে পারছি না। এতে চাহিদার তুলনায় ফল আমদানি হচ্ছে কম। এখন সরকার যদি মনে করে যে ফল আমদানি বন্ধ করলে ভালো হবে, তা হলে একেবারে বন্ধ করে দেওয়া ভালো। অন্যথায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। বাজারে ফলের দাম বাড়ছে।’

মৌসুমি ফলের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্রে ঋণপত্র খুলে ফল আমদানি করছেন এবং দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘যাঁরা আগে কখনো ফলের ব্যবসা করেননি, তাঁরা এই সুযোগে ব্যবসায় নেমে যাচ্ছেন। এখন খেজুর আমদানির সময়, কিন্তু আমরা ঋণপত্র খুলতে পারছি না। রমজানের কাছাকাছি সময় যদি ঋণপত্র খুলতে হয়, তখন দাম বেশি পড়বে। তাতে আমাদের ঘাড়ে দোষ আসবে।’

এমনটা হলে ফলের বাজার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে, এমন আভাস মিলেছে ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামানের কথাতেও। তিনি বলেন ‘যাঁরা কখনো ব্যবসা করেননি, তাঁরা ঋণপত্র খুলতে শুরু করায় বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে; দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।’

সভায় ডলার-সংকটের কথা বিবেচনা করে কিছু ফল ক্ষেত্রে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না, তা নিয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেওয়ার কথাও জানান ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। সে লক্ষ্যে আমদানি-নির্ভর ফলের ক্ষেত্রে করকাঠামো সংস্কারের কথাও জানান তিনি।  

দেশে এখন অনেক ধরনের বিদেশি ফল চাষ হচ্ছে। ডলার-সংকটের এই সময় বিদেশি ফলের উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে বলে মনে করেন ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘একসময় আমরা ভাবিনি যে দেশে ড্রাগন বা স্ট্রবেরি হবে। সেখানে এখন মাল্টা, কাজুবাদামের চাষও হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ দোকানে যে দামে ফল বিক্রি হয়, কেতাদুরস্ত সুপারশপে তার দাম কয়েক গুণ বেশি, যা সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক।’

তবে এখন থেকেই ফলের বাজারে নজর রাখলে রোজায় তেমন সংকট হবে না বলে মনে করেন ভোক্তা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। দাম কারসাজি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাকা ভাউচার সংরক্ষণে সবার প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, চলমান ডলার-সংকটের কারণে ফল আমদানির ক্ষেত্রে শতভাগ মার্জিন দিয়ে ঋণপত্র খোলার বাধ্যবাধকতা থাকায় দেশের বাজারে ফল আমদানি কমেছে। ফলে বেড়েছে ফলের দাম। বাজারভেদে আপেল প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৮০ টাকা, সবুজ আপেল ৩০০ থেকে ৩২০, আনার ৪০০ থেকে ৪৫০, লাল আঙুর ৪০০ থেকে ৪৫০, নাশপাতি ২৪০ থেকে ২৭০ ও কমলা ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলের মানের কারণে কোথাও কোথাও দামের আরও পার্থক্য দেখা যায়।  

ভোক্তা অধিদপ্তরের অনুষ্ঠানে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা ফল ব্যবসায়ী, ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।