বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে পুরোনো এক ধারণার অবসান হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এত দিন ধারণা ছিল, অসমতার সঙ্গে মানুষের সুখের স্তর বা মানুষ কতটা সুখী, তার সম্পর্ক নির্ণয়ের প্রচেষ্টা অপ্রাসঙ্গিক। এই সমীক্ষায় জানা গেল, মানুষ কতটা সুখী, তার সঙ্গে অর্থনৈতিক অসমতার সম্পর্ক আছে। ৭৮টি দেশের ওপর চার দশকব্যাপী এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের লিচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড বার্টম্যান মনে করেন, যখন অসমতা বৃদ্ধি পায়, তখন উচ্চ আয়ের মানুষেরা তেমন একটা লাভবান হন না। বরং ধনী ব্যক্তিরা তাঁদের চেয়ে যাঁরা আরও বেশি ধনী, তাঁদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই মনে হয়, তাঁদের হাতে কখনোই পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না।
অসমতার মূল প্রভাব পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। তাঁদের মনে তখন পিছিয়ে পড়ার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। এমনকি যখন মনে হয় যে গড়পড়তা মানুষের চেয়েও তাঁরা পিছিয়ে, তখন তাঁদের মনে হতাশা সৃষ্টি হয়।

এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ডেভিড বার্টম্যান। তবে এখনো এই প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আগামী বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সোশিওলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা ১ থেকে ১০-এর মধ্যে তাঁদের বাস্তব জীবনের সন্তুষ্টির মান নির্ণয় করেন। এবং সেই মানের সঙ্গে তাঁরা জিনি সহগের সম্পর্ক স্থাপন করেন। ১৯৮১ সাল থেকে ২০২০ সালের উপাত্তের ভিত্তিতে মান নির্ণয় করেন তাঁরা।

যেমন, ১৯৮১ সালে যুক্তরাজ্যে মন্দার সময় মানুষের সুখের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। কিন্তু ১৯৮০-এর দশকে অর্থনৈতিক উত্থানের যুগে অসমতা বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৯৯ সালে সুখের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
এ-ও দেখা গেছে, সরকার একসময় অসমতা আমলে নেওয়ার পর মানুষের সুখের মাত্রা ২০১৮ সালে আবার সেই আগের মাত্রায় ওঠে—৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

বার্টম্যান দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের এসব উপাত্ত থেকে আরও কিছু গড়পড়তা চিত্র পাওয়া যায়। দেখা গেছে, উন্নত দেশে অসমতা বৃদ্ধি পেলে মানুষের জীবনমানে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে; কিন্তু রূঢ় বাস্তবতা হলো, সাম্প্রতিক অতীতে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই অসমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আর এই সম্পর্ক কেবল যুক্তরাজ্যেই নয়, যেসব দেশে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে, সবখানেই প্রযোজ্য।

ভারতের প্রসঙ্গে বার্টম্যান বলেন, ভারতে গত তিন দশকে অসমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের সুখের মাত্রা কমেছে। ১৯৯০ সালে ভারতে সুখের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭, ২০০৬ সালে যা ৫ দশমিক ৮-এ নেমে এসেছে। ২০১২ সালেও তা ছিল ১৯৯০ সালের কম। অথচ এই সময় ভারত মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে প্রবেশ করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আবার ঠিক সেই সময় তার জনগণের সুখের মাত্রা কমেছে।

আবার যেসব দেশে অসমতা কমেছে, যেমন পোল্যান্ড, পেরু, মেক্সিকো ও ইউক্রেনের (যুদ্ধের আগে) মানুষের সুখের মাত্রা বেড়েছে।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন