ছয় বছর ধরে ঝুলে আছে মাউশির নিয়োগ, ফল প্রকাশের দাবিতে চাকরিপ্রার্থীদের মানববন্ধন
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ২০২০ সালের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গত ছয় বছরেও পূর্ণাঙ্গ আলোর মুখ দেখেনি। বিশেষ করে ৪টি ক্যাটাগরির ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের দাবিতে দীর্ঘ লড়াই চালাচ্ছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। নানা প্রশাসনিক জটিলতা পেরিয়ে বিষয়টি এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের জালে আটকে আছে।
দ্রুত এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে ফলাফল প্রকাশের দাবিতে গতকাল রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচার দুদক ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী প্রার্থীরা। একই দাবিতে এর আগের দিন শিক্ষা ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা।
মাউশির এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ২০২০ সালে প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তির ২৮টি ক্যাটাগরির মধ্যে অধিকাংশ পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া ২০২৩ সালে শেষ হলেও প্রদর্শক, গবেষণা সহকারীসহ ৪টি ক্যাটাগরির ফলাফল আটকে দেয় কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের জুনে মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও ফলাফল প্রকাশে গড়িমসি শুরু হলে চাকরিপ্রার্থীরা হতাশ হয়ে পড়েন। প্রার্থীরা জানান, কোটা–সংক্রান্ত জটিলতা নিষ্পত্তি এবং গত বছরের এপ্রিলে বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির (ডিপিসি) সভা হওয়ার পরও যখন চূড়ান্ত ফল আসেনি, তখন তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কোনো প্রশাসনিক সুরাহা না পেয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ে ১০ জন প্রার্থীর একটি প্রতিনিধিদল হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মাউশিকে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনার জবাবে গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর মাউশি এক চিঠিতে প্রার্থীদের জানায়, এই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ থাকায় বর্তমানে দুদকের তদন্ত কার্যক্রম চলছে। দুদকের এই তদন্ত চলায় মাউশি ফলাফল প্রকাশে আইনগতভাবে অপারগতা প্রকাশ করে। মূলত নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার কারণেই বিষয়টি দুদক পর্যন্ত গড়ায়। তবে প্রার্থীরা বলছেন, হাতে গোনা কয়েকজনের অনিয়মের জন্য হাজার হাজার সাধারণ প্রার্থীর ক্যারিয়ার নষ্ট করা হচ্ছে।
পরবর্তী সময় গত বছরের ৯ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে দুদককে ৯০ দিনের সময় বেঁধে দেন তদন্ত প্রতিবেদন মাউশিতে দাখিল করার জন্য। গত ২৮ ডিসেম্বর দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে সেই আদেশের কপি গ্রহণ করে। গতকালের মানববন্ধনে প্রার্থীদের প্রধান দাবি ছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুদক যেন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যাতে মাউশি দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করতে পারে।
মানববন্ধনে নিয়োগপ্রত্যাশীরা অভিযোগ করেন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ছয় বছর পার হয়ে গেছে। প্রায় ২০ মাস আগে মৌখিক পরীক্ষা শেষ হলেও এখনো ফল ঝুলে আছে। এর মধ্যে অনেক প্রার্থীর সরকারি চাকরির বয়স পার হয়ে গেছে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া এই সাত হাজার প্রার্থীর পরিবারের দাবি, দুদকের তদন্ত দ্রুত শেষ করে নির্দোষ প্রার্থীদের অবিলম্বে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক।
মানববন্ধন থেকে প্রার্থীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুদকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তদন্তের দীর্ঘসূত্রতার কারণে যেন আর কোনো যোগ্য প্রার্থীর স্বপ্ন শেষ না হয়। অনিয়ম যাঁরা করেছেন, তাঁদের শনাক্ত করা হোক; কিন্তু পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া যেন আর একদিনও আটকে না থাকে।