জেন–জি যেভাবে কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে

জেন–জি প্রজন্মফাইল ছবি: প্রথম আলো

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একের পর এক স্থিতিশীল ক্যারিয়ার পথ ভেঙে দিচ্ছে এবং প্রশ্নবিদ্ধ করছে ডিগ্রির প্রচলিত মূল্যকে। জেন–জি প্রজন্ম বুঝতে পেরেছে, চাকরির নিরাপত্তা প্রতিনিয়ত নতুন করে নিশ্চিত করতে হয়।

তাই জেন–জিকে হঠাৎ হঠাৎ চাকরি বদলানো, অস্থির প্রজন্ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাস্তবে তারা অনেকটা প্রাথমিক যুগের ঝুঁকি বিশ্লেষকের মতো—যে কাজ মেশিন দখল করতে পারবে না, সেদিকেই তারা নজর রাখছে। আর যেসব পেশায় অ্যালগরিদমের ঝুঁকি বেশি, সেখান থেকে তারা দ্রুত সরে যাচ্ছে।

জেন–জিরা নতুন শিল্পে যাচ্ছে, নিজেরাই নতুন দক্ষতা শিখছে এবং এমন পেশা বেছে নিচ্ছে, যেখানে মানুষের স্বতন্ত্র গুণাবলি অপরিহার্য। তারা প্রযুক্তিকে প্রতিরোধ করছে না, বরং শ্রমবাজার স্থির হওয়ার আগেই তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।

চাকরির পুরোনো ধারণা বদলাচ্ছে

আগের প্রজন্ম যে অর্থনৈতিক ধারণার ওপর বড় হয়েছে, সেগুলো দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়ছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জেন–জি (৬৫ শতাংশ) মনে করে, কলেজ ডিগ্রি এআই-জনিত চাকরি হারানো থেকে তাদের রক্ষা করতে পারবে না। এটি হতাশা নয়, এটি নিখুঁত পর্যবেক্ষণ।

৪৩ শতাংশ ইতিমধ্যে এআইয়ের প্রভাবে নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বদলে ফেলেছে। আর ৪০ শতাংশ নিজেরাই নতুন দক্ষতা ও সার্টিফিকেশন অর্জন করছে—অভিযোজনকে তারা একই সঙ্গে ঢাল এবং মুদ্রা হিসেবে দেখছে।

এখানে স্পষ্ট এক বিচ্ছেদ দেখা যায়: ডিগ্রি–চাকরি–ধীরে ধীরে উন্নতি—এই পুরোনো সূত্র থেকে সরে এসে তারা বেছে নিচ্ছে দ্রুততা, স্বনির্ভরতা এবং ক্রমাগত আত্মোন্নয়ন। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণই এখন নতুন কৌশল।

আরও পড়ুন

দক্ষ শ্রম ও ট্রেডস

সবচেয়ে চমকপ্রদ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো জেন–জির বড় অংশ দক্ষ শ্রম ও ব্লু-কলার পেশার দিকে ঝুঁকছে। তাদের চোখে এগুলোই সবচেয়ে এআই-প্রতিরোধী ক্ষেত্র। অর্ধেকেরও বেশি (৫৩ শতাংশ) তরুণ গুরুত্বের সঙ্গে এসব ট্রেড বিবেচনা করছে।

টিকটকের ‘ট্রেডটক’ নির্মাতারা এই ধারা আরও শক্ত করেছে—যেখানে এই কাজগুলোকে দেখানো হচ্ছে স্থিতিশীল, লাভজনক এবং গভীরভাবে মানবকেন্দ্রিক পেশা হিসেবে।

আরও পড়ুন
ফাইল ছবি
আরও পড়ুন

সামাজিক মাধ্যমই নতুন শ্রমবাজার

এআই ঠিক করে দিচ্ছে জেন–জি কোন পেশা বেছে নেবে; কিন্তু সামাজিক মাধ্যম নির্ধারণ করছে তারা সেই পেশায় পৌঁছাবে কীভাবে। একসময় যেসব প্ল্যাটফর্মকে বিভ্রান্তি বলা হতো, সেগুলো এখন চাকরির বাজার, নেটওয়ার্কিং কেন্দ্র এবং গবেষণার প্রধান হাতিয়ার। যেটির তথ্য চোখ কপালে তোলার মতো—

–৪৬ শতাংশ টিকটকের মাধ্যমে চাকরি বা ইন্টার্নশিপ পেয়েছে

–৯২ শতাংশ ক্যারিয়ার পরামর্শের জন্য টিকটককে বিশ্বাস করে

–৭৬ শতাংশ কাজসংক্রান্ত কনটেন্টের জন্য ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে—লিংকডইন ব্যবহার করে ৩৪ শতাংশ

–৯৫ শতাংশ আবেদন করার আগে প্রতিষ্ঠানের সামাজিক মাধ্যম খুঁটিয়ে দেখে

‘ডিজিটাল সেলফ’-এর শক্তি

জেন–জি জানে তাদের অনলাইন উপস্থিতি একটি দ্বিতীয় সিভি। ৭৮ শতাংশ বিশ্বাস করে, নিয়োগকারীরা তাদের সামাজিক প্রোফাইল দেখেন। ফলে অনলাইন পরিচয় তারা খুব সচেতনভাবে গড়ে তোলে।

একই সঙ্গে তারা সামাজিক মাধ্যমের নেতিবাচক দিকও বোঝে—৪৮ শতাংশ জোরালোভাবে মনে করে, এটি অবাস্তব ক্যারিয়ার প্রত্যাশা তৈরি করে। তবু চারজনের তিনজন ক্যারিয়ারভিত্তিক ইনফ্লুয়েন্সার অনুসরণ করে, যারা জটিল কর্মজীবনের বাস্তবতা সহজ ভাষায় তুলে ধরে। এই কণ্ঠগুলোর বেশির ভাগই ২৬ থেকে ৩৯ বছর বয়সী—অভিজ্ঞতা আছে, আবার জেন–জির ডিজিটাল ভাষাও বোঝে।

এই পরিবর্তনের গতি এত দ্রুত যে অনেক নিয়োগকর্তা এখনো মানিয়ে নিতে পারেননি। যদি এআই কাজের নিয়ম বদলে দেয়, তবে জেন–জি বদলে দিচ্ছে তার জবাবের কৌশল। এক কদম এগিয়ে থাকা, দ্রুত পরিবর্তন এবং মেশিনের কাছে পরাজিত না হওয়াই জেন–জি প্রজন্মের কৌশল।

আরও পড়ুন