দিনাজপুরের বিরামপুরে ১৭ অক্টোবর জব ফেয়ার, আসবে নামীদামি কোম্পানি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘১৭ অক্টোবর বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমরা একটা প্রথমবারের মতো ডিফারেন্ট টাইপের একটা জব ফেয়ার করব। জব ফেয়ার মানে কাজ, মানে চাকরি কীভাবে খুঁজতে হয়, চাকরি কীভাবে পাওয়া যায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন নামীদামি কোম্পানি এখানে আসবে।’
গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে আটটায় দিনাজপুর বিরামপুর পৌরশহরের বড়মাঠে ‘দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’–এর ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির হাকিমপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ফেরদৌস রহমান।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের চার ইউএনএকে (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট) নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে আমাদের বিরামপুরের ইউএনওর সভাপতিত্বে প্রথম একটি মিটিং করেছি। পরে ইউএনওরা উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়েও মিটিং করেছেন। আগামী সপ্তাহ থেকে ওইটা নিয়ে কাজ হবে। আপনারা যাঁরা বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষক আছেন, যাঁদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে বসে আছে, ওই দিন বিভিন্ন স্টলে ঘুরে ঘুরে তারা দেখতে পাবে—কোন জায়গায় তারা যোগ্য হয়, কোন জায়গায় তাদের অভিজ্ঞতা, তাদের যোগ্যতা কাজে লাগে এবং কীভাবে তাদের যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে এবং কী প্রশিক্ষণ নিলে তাদেরকে চাকরির জন্য উপযুক্ত করা যায়।’
জব ফেয়ারের ধরন প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, ‘জব ফেয়ার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এখানে কোনো টিকিট সিস্টেম নেই। শুধু আমরা চাইব শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, অশিক্ষিত মানে অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণি পাস এবং ওপরে যাঁরা আছেন, তাঁদের আমরা আহ্বান জানাব। ছেলেমেয়েরা এখানে আসবে। নিজেরা ঘুরে ঘুরে দেখবে। আমরা খুব আশাবাদী যে বাংলাদেশের খুব নামকরা যারা বিভিন্ন কোম্পানি আছে, তারা এখানে আসবে। ওনারা এখানে স্টল করবেন। স্টলে আমাদের প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করবে। আমরা সবাই মিলে সহযোগিতা করব। আমি নিজেও থাকব।’
জব ফেয়ারে সুবিধা প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘জব ফেয়ারে বিভিন্ন ধরনের ইন্টারভিউ সিস্টেম থাকবে। কাজ কীভাবে করতে হয়, ফ্রিল্যান্সিং কীভাবে করতে হয়, এ রকম ছোট ছোট ক্লাস করার ব্যবস্থা থাকবে। এতে যারা আগ্রহী, যারা এই উপজেলার এবং এই চার উপজেলার বাইরেও যারা আগ্রহী, তারাও যদি এখানে অংশগ্রহণ করতে চায়, এটা তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে। কাজেই আপনারা এইটা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হোক, সব সাংবাদিক ভাইকে আমি অনুরোধ করব প্রচার করার জন্য। এটা আরও ব্যাপকভাবে আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রচার করা হবে।’
টুর্নামেন্টের আয়োজন প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুরু করতে যাচ্ছি। দিনাজপুর-৬ আসনে (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট) আমাদের ২৩টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা আছে। এ টুর্নামেন্টে মোট ২৬টি দল হবে। চারটি উপজেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা হবে। ফাইনাল খেলা হয়তো এখানে (বিরামপুর) হবে। তবে সেমিফাইনালগুলো বিভিন্ন উপজেলায় হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরীন, বিএনপির দিনাজপুর জেলা শাখার সহসভাপতি আতিকুর রহমান, বিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মিঞা মো. শফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী, হাকিমপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন, বিরামপুর পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক ও বিরামপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরমান আলীসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।