২০২৬ সালে চাকরি : ভিড়ের মধ্যে নিজেকে আলাদা করবেন যেভাবে

২০২৬ সালের প্রথম ভাগেই প্রায় ৪০ শতাংশ পেশাজীবী নতুন চাকরি খোঁজার পরিকল্পনা করছেনফাইল ছবি

২০২৫ সালটি ছিল অনেকটা ‘ধীরে চলো’ নীতির। বিশ্বজুড়ে টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক পেশাজীবীই ঝুঁকি না নিয়ে বর্তমান চাকরিতে থিতু থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সাল আসার আগেই সেই জড়তা কাটতে শুরু করেছে। নতুন বছরে নিজের ক্যারিয়ারে বড় কোনো বদল আনতে চাইলে আপনাকে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে।

সম্প্রতি কর্মী নিয়োগকারী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান রবার্ট হাফের একটি জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম ভাগেই প্রায় ৪০ শতাংশ পেশাজীবী নতুন চাকরি খোঁজার পরিকল্পনা করছেন। গত বছর এই হার ছিল ২৯। অর্থাৎ আপনি যে পদের জন্য লড়ছেন, সেখানে আপনার প্রতিযোগী গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও তরুণ প্রজন্মের (জেন–জি) মধ্যে এই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশের পটভূমিতে এই বৈশ্বিক প্রবণতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে। আমাদের দেশেও তরুণ কর্মীরা এখন শুধু ‘একটি চাকরি’ নয়; বরং উন্নত সুযোগ-সুবিধার খোঁজ করছেন। এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করার জন্য কিছু কার্যকরী কৌশল অনুসরণ করতে হবে।

আরও পড়ুন

কর্মীরা কেন চাকরি পরিবর্তন করতে চাইছেন

জরিপ বলছে, কর্মীরা এখন শুধু বেশি বেতনের জন্য চাকরি ছাড়েন না। তাঁদের এই প্রবণতার পেছনে কাজ করছে মূলত চারটি কারণ:
• অধিকতর উন্নত সুযোগ-সুবিধা।
• বর্তমান প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতির সুযোগের অভাব।
• বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন না পাওয়া।
• অতিরিক্ত কাজের চাপে মানসিক অবসাদ বা ‘বার্নআউট’।

চাকরিপ্রার্থীদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো শত শত সিভির ভিড়ে নিয়োগকর্তার নজরে পড়া। ৫৯ শতাংশ বেকার প্রার্থী মনে করেন, ‘অতিরিক্ত আবেদনকারী’থাকাটাই তাঁদের প্রধান বাধা। এই বাধা কাটানোর উপায় হলো ‘নেটওয়ার্কিং’
ফাইল ছবি

সিভির পাহাড় ডিঙিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাবেন যেভাবে

চাকরিপ্রার্থীদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো শত শত সিভির ভিড়ে নিয়োগকর্তার নজরে পড়া। ৫৯ শতাংশ বেকার প্রার্থী মনে করেন, ‘অতিরিক্ত আবেদনকারী’ থাকাটাই তাঁদের প্রধান বাধা। এই বাধা কাটানোর উপায় হলো ‘নেটওয়ার্কিং’।

সব জায়গায় ঢালাওভাবে একই সিভি না পাঠিয়ে আপনার পরিচিত ব্যক্তিদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন। কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে পরিচিত ব্যক্তি থাকলে তাঁর মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগকারী কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। যদি কেউ চেনা না থাকে, তবে লিংকডইনের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক গড়ে তুলুন। মনে রাখবেন, সরাসরি কারও মাধ্যমে আসা সিভি নিয়োগকর্তারা একটু বেশি মনোযোগ দিয়ে দেখেন।

আরও পড়ুন

পরিবর্তনের আগে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন

চাকরি পাওয়ার একটি বড় অন্তরায় হলো প্রার্থীর পছন্দের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরনের অমিল। অনেক সময় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পড়ে মনে হয় চাকরিটি দারুণ, কিন্তু কাজ শুরু করার পর মোহভঙ্গ হয়। তাই আবেদনের আগেই ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ নিন। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বর্তমান বা সাবেক কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে সেখানকার কাজের পরিবেশ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নিন। এতে ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার উত্তরগুলো অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য হবে।

মনে রাখবেন চাকরির বাজার প্রতিযোগিতামূলক হলেও সঠিক কৌশল ও আধুনিক প্রস্তুতির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব। নিজের দক্ষতাকে ঝালিয়ে নিয়ে নতুন বছরে নতুন ক্যারিয়ারের দিকে পা বাড়ানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। ফাইল ছবি

নিজের ‘ব্র্যান্ডিং’ ঠিক করুন

নিয়োগকর্তারা সাধারণত একটি সিভির পেছনে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় দেন। এই অল্প সময়ে তাঁদের মুগ্ধ করতে হবে। আপনার সিভি, কভার লেটার এবং লিংকডিন প্রোফাইল কি কাঙ্ক্ষিত পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? যদি আপনি গ্রাফিক ডিজাইনার হতে চান, তবে আপনার প্রোফাইলে কি সেই দক্ষতার প্রতিফলন আছে?

যে পদের জন্য আবেদন করছেন, সেই পদের জন্য প্রয়োজনীয় ‘কি-ওয়ার্ড’ বা শব্দগুলো আপনার সিভিতে রাখুন। আপনি কেন ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পদ হতে পারেন, তা সংক্ষেপে ও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরুন।

ব্যবস্থাপকদের জন্য করণীয়আপনি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক হন, তবে আপনার মেধাবী কর্মীরাও কিন্তু অন্য কোথাও ভালো সুযোগ খুঁজছেন। তাই ভালো কর্মীদের ধরে রাখতে হলে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলুন। কর্মীদের ভালো কাজের জন্য বিশেষ বোনাসের ব্যবস্থা করুন। কাজের গুরুত্ব বুঝিয়ে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব দিয়ে কর্মীদের অনুপ্রাণিত করুন।

মনে রাখবেন, চাকরির বাজার প্রতিযোগিতামূলক হলেও সঠিক কৌশল ও আধুনিক প্রস্তুতির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব। নিজের দক্ষতাকে ঝালিয়ে নিয়ে নতুন বছরে নতুন ক্যারিয়ারের দিকে পা বাড়ানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন