বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি চালুর উদ্যোগ

শিক্ষক
প্রতীকী ছবি

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। তাঁরা যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করেন, সেখানেই আর শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে না। এখন থেকে তাঁরাও সুবিধা অনুসারে বদলি হতে পারবেন পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এ বিষয়ে একটি খসড়া তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেটি যাচাই-বাছাই করার পর নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।

বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি-সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির জন্য গত রোববার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এনটিআরসিএ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

বৈঠকে আলোচনা হয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বদলি অনেক দিনের একটি দাবি। তাঁরাও পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলি হতে চান। এটি করা গেলে শিক্ষকদের অনেক দিনের দাবি পূরণ হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে বদলি ব্যবস্থা চালুর দাবি জানাচ্ছেন। ২০১৯ সালে এমপিও শিক্ষকদের বদলি চালু করতে একটি নীতিমালার খসড়া করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. এনামুল কাদের খান প্রথম আলোকে বলেন, বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে এই প্রথম একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মূলত এই বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সভায় বদলি বিষয়ে একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে কথা হয়েছে। সামনে এ বিষয়ে আরও সভা হবে। এরপর বদলির নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।

আরও পড়ুন

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান বেসরকারি শিক্ষকেরা। তাঁরা বলেন, ‘অনেক দিন ধরে বদলির বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে। ইচ্ছা না থাকার পরও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্য হয়ে আমাদের অনেককে যোগ দিতে হয়। সেখানেই অবসর নিতে হয়। বদলির ব্যবস্থা থাকলে স্বাচ্ছন্দ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বদলাতে পারতাম। তাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ই উপকৃত হতো।’

আরও পড়ুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা টি আলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. সান্ত আলী বলেন, ‘শিক্ষকদের বদলি বা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ শিক্ষকদের প্রাণের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেওয়ায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ২০১৯ সালের মতোই যেন উদ্যোগটি ধূলিসাৎ না হয়, সে বিষয়ে সবার প্রতি অনুরোধ রইল।

আরও পড়ুন