৫০তম বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষা, পিএসসি প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের প্রথম বিসিএস ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একদল চাকরিপ্রার্থীর পরীক্ষা স্থগিতের দাবির মুখে পিএসসি বলছে, পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ২১ জানুয়ারি থেকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব সরকারি চাকরির পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন একদল চাকরিপ্রার্থী। নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ১৮ জানুয়ারি তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তবে এ বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিসিএস পরীক্ষা পূর্বঘোষিত তারিখ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি কর্ম কমিশন সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। স্থগিতের কোনো সুযোগ নেই।’

আরও পড়ুন

নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পিএসসি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোর কেন্দ্র পরিদর্শক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে ইতিমধ্যে মতবিনিময় সভা করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কেন্দ্রগুলোয় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠকে বসবে কমিশন। প্রশ্নপত্র ফাঁস বা যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

৫০তম বিসিএস থেকে ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করতে চায় পিএসসি। এ নিয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বলেন, ‘আমরা এই বিসিএসটিকে মাইলফলক হিসেবে দেখছি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত ফল পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া আমরা ১২ মাসের মধ্যে শেষ করার জন্য আপ্রাণ কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য সেশনজটমুক্ত বিসিএস নিশ্চিত করা।’

আরও পড়ুন

আবেদন ও পদসংখ্যা

এবারের বিসিএসে আবেদন জমা পড়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১টি, যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম। ৪৭তম বিসিএসেও আবেদনকারী ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ জন। ৫০তম বিসিএসে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে মোট ২ হাজার ১৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫টি ক্যাডার পদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৫০ জন নেওয়া হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে। এ ছাড়া প্রশাসনে ২০০ জন ও পুলিশে ১১৭ জন নিয়োগ পাবেন। নন-ক্যাডারের ৩৯৫টি পদের মধ্যে নবম গ্রেডে রয়েছে ৭১টি পদ।

আরও পড়ুন

নম্বর বণ্টন ও বিশেষ নির্দেশনা

এবারের প্রিলিমিনারিতে বাংলা, ইংরেজি ও বাংলাদেশ বিষয়াবলির নম্বর ৫ করে কমিয়ে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, গাণিতিক যুক্তি এবং নৈতিকতায় ৫ নম্বর করে বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যেসব প্রার্থীর শ্রুতলেখক প্রয়োজন, তাঁদের প্রয়োজনীয় নথিসহ আবেদনের সময় আগেই পার হয়েছে। পিএসসি তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শ্রুতলেখক নিশ্চিত করবে। কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রিলিমিনারি শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।