এআই যুগে চাকরির নিরাপত্তা দক্ষতায় না ডিগ্রিতে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত কর্মক্ষেত্রকে বদলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নির্ভর করবে কর্মীরা কত দ্রুত পুনর্দক্ষতা অর্জন করতে পারে তার ওপর। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয়তার প্রভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই প্রশ্নটি এখন আর ‘এআই চাকরি নেবে কি না’ নয়, বরং ‘কর্মীরা সেই পরিবর্তনের জন্য কতটা প্রস্তুত’।

ডিগ্রি নয়, দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ—

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিগ্রি–নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সক্ষমতাভিত্তিক শিক্ষার দিকে এগোতে হবে। এআই দ্রুত কাজের ধরন পরিবর্তন করছে, তাই অভিযোজন ক্ষমতা ভবিষ্যতের সবচেয়ে মূল্যবান দক্ষতা হবে।

একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিপুন শর্মা বলেন, ‘মানুষকে নতুন প্রযুক্তি শেখার, পুনরায় শেখার এবং তা বাস্তব কাজে প্রয়োগ করার জন্য প্রস্তুত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে নিজেকে অভিযোজিত করতে পারবে, তারা প্রযুক্তি পরিবর্তনের মধ্যেও প্রতিরোধী থাকবে।’

আরও পড়ুন

প্রশিক্ষণ ও পুনর্দক্ষতা: কর্মজীবনের নিরাপত্তা—

এআই মানুষের কাজ সরাসরি নেবে না, বরং কাজের ধরন পরিবর্তন করছে। যেখানে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ আছে, সেখানে ঝুঁকি বেশি; আর যেখানে বিচার, ব্যাখ্যা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রয়োজন, সেগুলো পরিবর্তিত হচ্ছে। শর্মা বলেন, ‘দক্ষতা হচ্ছে প্রযুক্তিগত ব্যাঘাত এবং চাকরি হারানোর মধ্যে সুরক্ষা। যারা এআই ব্যবহার করতে এবং তার ফলাফল ব্যাখ্যা করতে জানে, তারা এআইকে হুমকি নয়, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।’

এআই মানুষের সহযোগী, প্রতিস্থাপক নয়—

সংগঠনগুলোও এখন চাকরির পরিকল্পনায় এআইকে সহযোগী হিসেবে দেখছে। চাকরির ভূমিকা সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে, কাজের দায়িত্বকে সৃজনশীল চিন্তা, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি সামলানো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিকে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

অ্যাপ্রেন্টিসশিপের গুরুত্ব—

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্লাসরুমের শিক্ষার চেয়ে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এটি বাস্তব কাজে এআই দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেয়, যেমন ডেটা প্রিপারেশন, ওয়ার্কফ্লো অপ্টিমাইজেশন, প্রম্পট (prompt) ব্যবহার, এবং এআই-সহায়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। শর্মা বলেন, ‘অ্যাপ্রেন্টিসশিপ বাস্তবিক, স্কেলেবল এবং বিভিন্ন শিল্পে দক্ষতা পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। এটি শিক্ষাকে চাকরির সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং নিশ্চিত করে যে শিক্ষার্থীরা এমন দক্ষতা অর্জন করছে, যা নিয়োগকর্তারা চাইছে।’

ভবিষ্যতে এআই কেবল একটি টুল হবে; চাকরির প্রাপ্যতা নির্ধারণ করবে কার কাছে সেই টুল ব্যবহার করার, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা করার এবং পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার দক্ষতা আছে।

আরও পড়ুন