২০২৬ সালে চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকার কৌশল কী কী
২০২৬ সালের চাকরি বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে যাচ্ছে। শুধু একটি সাধারণ সিভি আর যথেষ্ট নয়, নিয়োগদাতারা এখন বাস্তব কাজের প্রমাণ, দক্ষতার গভীরতা ও ভবিষ্যৎমুখী প্রস্তুতির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা এখন থেকেই কৌশলগত প্রস্তুতি নেবেন, তাঁরাই আগামী দিনে এগিয়ে থাকবেন।
পোর্টফোলিও গড়ার গুরুত্ব
বর্তমান চাকরিবাজারে নিয়োগদাতারা আর শুধু সিভি দেখে সন্তুষ্ট নন। তাঁরা চান প্রার্থীর কাজের নমুনা, প্রকল্প, অর্জন ও বাস্তব ফলাফলের প্রমাণ। তাই শুধু দক্ষতার তালিকা না দিয়ে নিজের করা কাজ, সফল প্রকল্প ও মাপযোগ্য সাফল্য তুলে ধরে একটি শক্তিশালী পোর্টফোলিও তৈরি করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
আপস্কিলিং ও রিস্কিলিং: টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি
দ্রুত বদলে যাওয়া কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আপস্কিলিং ও রিস্কিলিং অত্যন্ত জরুরি। আপস্কিলিং মানে বিদ্যমান দক্ষতাকে আরও উন্নত করা। রিস্কিলিং মানে সম্পূর্ণ নতুন দক্ষতা শেখা, যাতে নতুন ভূমিকা বা নতুন খাতে কাজ করা যায়।
গুগল ক্যারিয়ার সার্টিফিকেট, কোরসেরা কিংবা মাইক্রোসফটের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল ও সার্টিফিকেশন অর্জন করলে চাকরির বাজারে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্রশিক্ষণ বেতন বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি করে। পাশাপাশি বর্তমান প্রতিষ্ঠান থেকে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের খরচ বহন করা যায় কি না, সেটিও জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দ্রুত বর্ধনশীল খাতে নজর দেওয়ার আহ্বান
যেসব খাতে চাহিদা কমছে, যেমন ক্লারিক্যাল ও সেক্রেটারিয়াল কাজ, প্রশাসনিক সহকারী বা ডেটা এন্ট্রি—সেখানে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। বরং দ্রুত বর্ধনশীল ও উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন খাতে নিজেকে প্রস্তুত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী পাঁচ বছরে যেসব পেশায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি আশা করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে—
প্রযুক্তিভিত্তিক পেশা
ডেলিভারি ড্রাইভার
নির্মাণশ্রমিক
কৃষিশ্রমিক
নার্সিং পেশাজীবী
সামাজিক কর্মী
কাউন্সেলিং পেশাজীবী
উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষক
সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি এখনই
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে নিয়োগদাতারা যে শীর্ষ দক্ষতাগুলো খুঁজবেন, সেগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া, নিয়মিত আপস্কিলিং-রিস্কিলিং করা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করাই চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও পেশাদার ক্যারিয়ার কোচিং থাকলে এই পথচলা আরও সহজ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যাঁরা এখন থেকেই পরিকল্পিতভাবে নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গড়ে তুলবেন, তাঁরাই ২০২৬ সালের চাকরি বাজারে এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তথ্যসূত্র: ক্যারিয়ার ব্রেক থ্রু