৪৬তম বিসিএস: নন-ক্যাডার পদে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে উত্তীর্ণদের মানববন্ধন
নন-ক্যাডার পদে অন্তর্ভুক্তিসহ কয়েকটি দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ৪৬তম বিসিএস উত্তীর্ণ প্রার্থীরা। আজ রোববার সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘৪৬তম বিসিএস নন-ক্যাডারপ্রত্যাশী চাকরিপ্রার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
প্রথমে সচিবালয়ের ৫ নম্বর ফটকের সামনে মানববন্ধনের চেষ্টা করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। পরে তাঁরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বরে প্রকাশিত ৪৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে ৩ হাজার ১৪০টি ক্যাডার পদের উল্লেখ থাকলেও কোনো নন-ক্যাডার পদ রাখা হয়নি। অথচ ‘নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা, ২০২৩’ অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তিতেই নন-ক্যাডার পদের বিবরণ থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। ক্রান্তিকালীন সময়ে দ্রুত সার্কুলার দিতে গিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা ও বিভিন্ন দপ্তরের চাহিদাপত্র (অধিযাচন) না পাওয়ায় পিএসসি এই পদগুলো যুক্ত করতে পারেনি। পরীক্ষার্থীদের ভাষ্য, রাষ্ট্রের এই অভ্যন্তরীণ পদ্ধতিগত বিলম্বের দায় কেন সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা নেবেন? পরীক্ষার্থীরা জানান, ৩৩ থেকে ৪৫তম বিসিএস পর্যন্ত প্রতিবারই বিপুলসংখ্যক প্রার্থীকে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়েছে। এমনকি পরবর্তী ৪৭তম বিসিএসেও নন-ক্যাডার পদ সংরক্ষিত আছে। মাঝখানে শুধু ৪৬তম বিসিএসকে বঞ্চিত করা সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘সুযোগের সমতা’ নীতির লঙ্ঘন। বিসিএসের তিনটি ধাপ পার করার পরও যদি প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আমরা বঞ্চিত হই, তবে তা মেধার প্রতি অবিচার।
মানববন্ধনে আন্দোলনরত এক পরীক্ষার্থী আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, ‘বিসিএসের তিনটি ধাপ পার করা মানে আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ও শ্রম এখানে বিনিয়োগ করা। এখন যদি কোনো অজুহাতে আমাদের নন-ক্যাডার পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়, তবে তা হবে আমাদের মেধার প্রতি চরম অবমাননা ও রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের নজিরবিহীন উদাহরণ।’
কর্মসূচি থেকে আন্দোলনকারীরা নন-ক্যাডার বিধিমালার ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী সরকারের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ৪৬তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদ যুক্ত করার দাবি জানান।